যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সাজাপ্রাপ্তদের মন্ত্রী বানানোর অভিযোগে প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বিচার হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর ৪১তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, অনেক বাধা বিপত্তি থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে।
অনেক বাধা পেরিয়ে জাতির পিতার শুরু করা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ সরকার সম্পন্ন করছে বলে জানান তিনি।
যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জিয়াউর রহমান ও বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, কোন বিবেকে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে আইনজীবী দাঁড়ান?
যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানানোর দায়ে খালেদা জিয়ার বিচার জনগণ প্রকাশ্যে করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জঙ্গিদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বিএনপি প্রমাণ করেছে তারাই এসব সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা।
পিতা হত্যার বিচারকাজ শেষ করতেই শত বাধা উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে বলে এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।
জঙ্গিদের জন্য খালেদা জিয়ার মায়াকান্নার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমেই প্রমাণ হয় তারাই সন্ত্রাসের মদদ দেয়।
পঁচাত্তরের পরও খুনি মোশতাক গাদ্দারি করেন— তিনি কিছুদিনের জন্যে রাষ্ট্রপতি হন পরে তাকে সরিয়ে জিয়া ক্ষমতায় আসেন খুনিদের পুরস্কৃত করেন, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেন সেদিন কাউকে পাশে পাইনি পেয়েছিলাম শুধু দেশের মানুষকে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমরা দুই বোন সেদিন বিদেশে ছিলাম— প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি বাবা নেই, অনেকে বিচার চায়। আমরা যে এতো আপনজন হারালাম বিচারও চাইতে পারিনি কারণ ইমডেমনিটি জারি করে মামলা জিডি করতে দেয়া হয়নি থানায় যেতে পারিনি।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সংসদ সদস্য একেএম রহমতউল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন প্রমুখ।