মানবতাবিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী তার ‘নিখোঁজ’ ছেলে ছাড়া প্রাণভিক্ষার আবেদন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেবেন না।
বুধবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে কাসেমের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, কারাসূত্র জানা গেছে, এ মানবতাবিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
কাসেমপত্নী বলেন, আমার ছেলে ও আইনজীবী আহমেদ বিন কাসেমকে সাদা পোশাকের পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে— তাকে না পাওয়া পর্যন্ত প্রাণভিক্ষা বা অন্যর কোনো বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না।
দুপুরে কাশিমপুর কারাগারে কাসেমকে দেখতে যান স্ত্রী আয়েশা তার দুই মেয়ে সুমাইয়া রাবেয়া ও তাহেরা তাসনিম, পুত্রবধূ শাহেদা তাহমিদা ও তাহমিনা আক্তার এবং ভাতিজা হাসান জামাল।
কাশিমপুর-২ কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকরের যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে—এরইমধ্যে কারাগারের কনডেম সেলে থাকা মীর কাসেমকে রায় পড়ে শোনানো হয়েছে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, পরিবারের সদস্যারা প্রায় দুই ঘণ্টা মীর কাসেমের সঙ্গে কথা বলেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে মীর আহমেদ বিন কাসেমকে গত ১০ আগস্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর আগে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না- সেই সিদ্ধান্ত জানাতে মীর কাসেম সময় চেয়েছেন।
সকালে তাকে রিভিউ আবেদন খারিজের রায় পড়ে শোনানো হয় তাকে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক বলেন, রায় শোনার পর তাকে কিছুটা চিন্তিত এবং বিমর্ষ দেখা গেছে।
তিনি আরো বলেন, প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্তের জন্য যেসময় তিনি চেয়েছেন সে ব্যাপারে আইনগত উপায়েই প্রক্রিয়া হবে আর তার এ সময় চাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে মীর কাসেম আলী কারাগারে তার কাছে থাকা রেডিওর মাধ্যমে রিভিউ খারিজ সংক্রান্ত রায় শুনেছেন।
পরে রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে রিভিউ খারিজ সংক্রান্ত রায়ের কপি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ গিয়ে পৌঁছায়। রাত অনেক বেশি হওয়ায় তখন মীর কাসেম আলীকে তা পড়ে শোনানো হয়নি।
বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে রায় পড়ে শোনানো হয়।
৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেম আলী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির কনডেম সেলে রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর ২০১২ সাল থেকেই এ কারাগারে রয়েছেন তিনি।
২০১৪ সালের আগে এ কারাগারে হাজতবাসকালে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদায় ছিলেন মীর কাসেম। পরে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তির পর তাকে ফাঁসির কনডেম সেলে পাঠানো হয়।