নতুন আইন করে বাজেয়াপ্ত করা হোক সব চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর সম্পত্তি— আর ক্ষতিপূরণ হিসেবে তা বন্টন করা হোক মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনদের মধ্যে বলে দাবি করেন লেখক- গবেষকরা।
সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও লেখক শাহরিয়ার কবির।
যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক জামাত নেতা মীর কাসেম আলী। সারাদেশে শতাধিক আর্থিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক মীর কাসেম আলীর সম্পদের পরিমাণ প্রায় হাজার কোটি টাকা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে জামাতের ১২৭টি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক মীর কাসেম। জামাতের অর্থের মূল যোগানদাতা এই বদর কমাণ্ডার।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কল্যাণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাত পুর্নবাসনের সুযোগ পেলে ১৯৭৭ সালে শিবিরের প্রথম কেন্দ্রীয় সভাপতি হন মীর কাসেম। এরপরই তিনি নামেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে। মুক্তিযুদ্ধের পর মসজিদ-মাদ্রাসা ভেঙ্গে ফেলা এবং হাজার হাজার মুসলমান হত্যার মিথ্যা তথ্য দিয়ে ইসলামী এনজিওর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ এনে গড়ে তোলেন ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা ট্রাস্ট।
বর্তমানে ইবনে সিনা ট্রাস্টের অধিনে রয়েছে আটটি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজ। ইসলামী ব্যাংক স্কুল ও কলেজ, দিগন্ত পেপার মিলের মালিকও কাসেম আলী। দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলী অধীনে রয়েছে নয়া দিগন্ত পত্রিকা আর দিগন্ত টেলিভিশন।
এছাড়া ১০টি কোম্পানী নিয়ে তার ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক গ্রুপের নাম কেয়ারী। কেয়ারী হাউজিং ও ইডেন শিপিং লাইনসের চেয়ারম্যানও এই যুদ্ধাপরাধী।
কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন চলাচলকারী ৫টি প্রমোদতরী রয়েছে তার একক মালিকাধীনে। এছাড়া কেয়ারী গ্রুপের হাজারেরও বেশি অ্যাপার্টমেন্ট ও বিপনি বিতান রয়েছে ঢাকা চট্রগ্রাম, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে।
ঢাকা মিরপুরের দক্ষিণ মনিপুরে ২৮৭ নম্বর প্লটের ভবনটি পান পৈতৃক সম্পদ হিসেবে। এছাড়া তার নামে মোহাম্মদপুরে একতা সোসাইটির ৫ কাঠা জমি ও মানিকগঞ্জে সাড়ে ১২ শতক জমি রয়েছে। ধানমন্ডির কেয়ারী প্লাজার ১৭৮.৬৯ বর্গমিটারের মালিকও তিনি। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২৭ হাজার ২৭৭টি শেয়ার রয়েছে তার নিজ নামে।
স্বাধীনতার পর থেকেই জামাত ও শিবিরের আয় ও কর্মসংস্থানের বড় উৎস হয়ে দাঁড়ায় এসব প্রতিষ্ঠান।