রামপাল প্রকল্পের ফলে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে— এটা নিশ্চিত জেনে সুন্দরবন রক্ষার জন্য আন্দোলন করা হচ্ছে—এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল।
রামপাল প্রকল্প নিয়ে ১০টি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে এক প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলীকে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও সেমিনারে অভিযোগ করেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিলিয়া মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে সুলতানা কামাল এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে আছে সবার সমান কথা বলা অধিকার আছে— সুন্দরবন বাংলাদেশের সব মানুষের সম্পত্তি। তাই এ নিয়ে কথা বলার অধিকার আমাদের আছে।
যে ১০টি প্রশ্ন করেছেন এবং রামপাল প্রকল্প কর্তৃপক্ষ যে উত্তর দিয়েছে, তা অর্ধসত্য ও ভুল। অপ্রাসঙ্গিক, বিভ্রান্তিকর ও পরিবেশ সমীক্ষা প্রতিবেদনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার যে জবাব দিয়েছে, তা অবৈজ্ঞানিক ও অপর্যাপ্ততাভিত্তিক বলে মনে করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষে তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, এ সরকার ঢাকার চারপাশে নদীগুলো রক্ষা করতে পারছে না। ছোটখাটো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না—তারা সুন্দরবন কীভাবে রক্ষা করবে?
সুন্দরবন রক্ষার ব্যাপারে আমরা কীভাবে তাদের ওপর আস্থা রাখব—সে প্রশ্ন তো আমরা করতেই পারি— যে ডাক্তার ছোটখাটো অপারেশন করতে গিয়ে রোগী মেরে ফেলেন, সেই ডাক্তার জটিল অপারেশন করে রোগী সুস্থ করে ফেলবেন—এমন আস্থা তো আমরা রাখতে পারি না বলে জানান তিনি।’
আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, ভারতের সাধারণ জনগণ ও বিশেষজ্ঞরাও রামপাল প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি স্বীকার করে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন— কিন্তু দেশটির কোম্পানি এ প্রকল্পের মাধ্যমে সুন্দরবন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তাই এ প্রকল্প হলে দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা চিরস্থায়ী হবে।
কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, সরকার একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতির কথা বলে তহবিল সংগ্রহ করছে, অন্যদিকে নিজেরাই পায়তারা করছে সুন্দরবন ধ্বংসের।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, রামপাল প্রকল্পে সুন্দরবনের ক্ষতি বিষয়ে আমরা বিভিন্ন সময়ে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছি। আমাদের প্রশ্ন নিয়ে সরকারের তো কোনো আলোচনা দেখিনি। এক প্রবাসী প্রকৌশলী যে ১০টি প্রশ্ন তুললেন, সঙ্গে সঙ্গে রামপাল প্রকল্প কর্তৃপক্ষ থেকে ওই ১০ প্রশ্নের জবাব দিয়ে বলা হলো যে তারা ওই ১০ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকল্প তৈরি করবে। এটা নাটক ছাড়া আর কিছু না।
সংবাদ সম্মেলনে ওই ১০টি প্রশ্ন বিষয়ে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির পক্ষে শরীফ জামিল।