ঈদে ঘরমুখো মানুষকে রাজধানীর টার্মিনালগুলোতে বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীবাহী বেশ কিছু বাস ছেড়ে গেলেও ফিরতি বাসগুলো আটকা পড়েছে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্ঝলের মহাসড়কে যানজটে। ফলে দেখা দিয়েছে শিডিউল বিপর্যয়। দ্রুত যানজটের অবসান না হলে ভয়াবহ যাত্রী দুর্ভোগের আশঙ্কা তাদের।
পবিত্র ঈদুল আযাহার টানা ছয় দিনের ছুটিতে বৃহস্পতিবার থেকেই ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ। রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে শুক্রবার সকাল থেকেই ছিল যাত্রীদের ভীড়।
সময়মতো বাস না পেয়ে যাত্রীরা পড়েন চরম দূর্ভোগে।
তারা জানান, টার্মিনালে ৮-৯ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও বাসের দেখা মিলছে না।
একে তো বাসের জন্য অপেক্ষা অন্যদিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে যানজটের আশংকায় করছেন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। একই ভোগান্তির অভিযোগ উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদেরও।
মহাসড়কের দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকার কারণে ঢাকা থেকে বাস পেতে দেরি হচ্ছে বলে জানান বাসমালিক কর্তৃপক্ষ।
দ্রুত যানজটের নিরসন না হলে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে টার্মিনাল থেকেই এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হবে বলেও জানান পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, ঈদের ছুটির প্রথম দিনে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। ঘরমুখো যাত্রীরা ছুটছেন কমলাপুর রেলস্টেশনে।
তবে, সকালের ট্রেনগুলোতে ভিড় ছিল অনেক বেশি। ছিল কয়েকটি ট্রেনের সিডিউলে হেরফের। অবশ্য ট্রেন দেরিতে ছাড়লেও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে পারবেন এতেই খুশি সবাই।
ঈদ আসলেই প্রিয়জনের কাছে ছুটে যান দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ। সামনেই খুশির ঈদ, আর তাই সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় সেই ভিড়টা কিছুটা কম এবার।
ট্রেন আসছে আবার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়েও যাচ্ছে। সিডিউল মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দু-একটা ট্রেন ছেড়েছে দেরিতে। এতে ভোগান্তি হলেও ঘরমুখো মানুষ তা মেনে নিচ্ছেন হাসি মুখেই।
৩টি স্পেশাল ট্রেনসহ শুক্রবার ৫৯টি ট্রেন ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে।
স্টেশন ম্যানেজার জানান, কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই এবার ঘরমুখো মানুষ ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি যেতে পারবেন।
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে স্বজনের টানে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। দুপুরের পর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ভীড় ছিলো চোখে পরার মতো। কয়েকটি লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে সদরঘাট টার্মিনাল।
পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালন করতেই ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির পথে যাত্রা লঞ্চের যাত্রীদের। তবে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লঞ্চ কর্মকর্তারা।
শুক্রবার ঈদের ছুটির প্রথম দিনে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ভীড় করতে থাকেন যাত্রীরা। সকালে যাত্রী সংখ্যা কম থাকলেও বিকেলে চাপ বাড়ে। দলে দলে যাত্রী আসতে থাকেন সদরঘাটে।
বেশির ভাগ রুটের লঞ্চ ঘাটে থাকায় যাত্রীরা সহজেই সুশৃংখল ভাবে এতে উঠে বসেন। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় লঞ্চ ছাড়ার অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় তাদের।
এর ঝামেলার পরেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করাটাই আনন্দের। আর এই আনন্দে মোটেও পিছিয়ে নেই কোমলমতি শিশুরা।
অনেকে আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ছুটেছেন বাড়ির পথে।
অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়টি মানতে নারাজ লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হচ্ছে না।
এদিক, সদরঘাটে যাত্রী নিরাপত্তায় কাজ করছে নৌ পুলিশ। পাশাপাশি প্রত্যেকটি পল্টুনে সতর্ক প্রহরায় রয়েছে টহল পুলিশ।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন ৯০ টি লঞ্চ সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাবে। এছাড়া, কোনো রুটের যাত্রী বেশি হলে অন্য রুটের লঞ্চ এনে তাদের পরিবহন করা হবে।