পরিবারের স্বজনরা মৃতদেহ না নেয়ায় রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পাঁচ জঙ্গিসহ ছয় জনকে বৃহস্পতিবার জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
দুপুরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ-সিএমএইচ মৃতদেহগুলো মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে। পরে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম জুরাইন কবরস্থানে মৃতদেহগুলো দাফন করে।
পাঁচ জঙ্গি হলো রোহান ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর এ হায়াৎ কবীর, শফিকুল ইসলাম উজ্জল ও খাইরুল ইসলাম পায়েল।
গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় কয়েকজুন বন্দুকধারী ঢুকে হামলা চালায়। এতে ১৭ বিদেশি, ৩ বাংলাদেশি ও পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ও এক রেস্তোরার কর্মী নিহত হন। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতদেহ নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন না করায় আঞ্জুমান মফিদুলের মাধ্যমে দাফন করা হয়েছে।
পাঁচ জঙ্গির বিস্তারিত পরিচয়
রোহান: অভিযানে নিহত রোহান ইবনে ইমতিয়াজের বাবা এস এম ইমতিয়াজ খান ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা। রোহানের মা শিক্ষিকা। দুই ভাইবোনের মধ্যে রোহান বড়। তিনি ঢাকার স্কলাসটিকা থেকে ‘এ’ লেভেল শেষ করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন।
মোবাশ্বের: গত ২৯ ফেব্রুয়ারি কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে মীর সামেহ মোবাশ্বের বনানীর ডিওএইচএসের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। তিনি বলেন, সামেহ স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল পাস করেছে। ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যে দিন সামেহ নিখোঁজ হয়, সে দিন তার গুলশানের আজাদ মসজিদের পাশের একটি কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কথা ছিল।
বাবা মীর এ হায়াৎ কবির একটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে চাকরি করেন। মা একটি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক।
নিরবাস: মনোশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসের ছাত্র ছিলেন নিরবাস ইসলাম। ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে নিরবাস বড়। বাসা ঢাকার উত্তরায়। তার নিকটাত্মীয়রা সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদে চাকরি করেন।
খায়রুল: বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চুতিনগর ইউনিয়নের ব্রিকুষ্টিয়া গ্রামের দিনমজুর আবু হোসেনের ছেলে খায়রুল। ব্রিকুষ্টিয়া দারুল হাদিস সালাদিয়া কওমি মাদ্রাসায় কিছুদিন পড়েছিলেন খায়রুল। এরপর ডিহিগ্রাম ডিইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদ্রাসা থেকে তিনি দাখিল পাস করেন বলে প্রতিবেশীরা জানান।
শফিকুল: শফিকুলের বাবা বদিউজ্জামান (৫৫) ও বড় ভাই আসাদুল ইসলাম (৩২) দুজনই কৃষিশ্রমিক।
শফিকুল ধুনটের গোঁসাইবাড়ি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও গোসাইবাড়ি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে ভর্তি হন।