দেশে রাজনীতির স্বাভাবিক পরিবেশ রয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতি-লুটপাট করতে পারছে না বলেই বিএনপি নানা কথা বলছে।
স্থানীয় সময় শনিবার ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিদেশি এ গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার কাছে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশে বিরোধী পক্ষ রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছে কি না? এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিরোধী দল বলতে কী বোঝান? অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা, তারা তো রাজনীতি করতে কখনো আসেনি। এসেছে লুটপাট করতে, দুর্নীতি করতে, সন্ত্রাস করতে, জঙ্গিবাদ উসকে দিতে এবং নিজেদের ভাগ্য গড়তে। তারা তা-ই করে গেছে, দেশের ভাগ্য গড়েনি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তো কারও কাছ থেকে কথা কেড়ে নিচ্ছি না। যার যা ইচ্ছা, কথা বলেই যাচ্ছে। তারা মিটিং করছে, র্যা লি করছে—সবই তারা করছে। রাজনীতির যথেষ্ট সুযোগ আছে, এর মধ্যে কোনো সন্দেহ নাই।’
সরকারপ্রধান আরো বলেন, ‘কাজেই তাদের স্পেসটা কোথায় দেব? দুর্নীতি করার স্পেস না সন্ত্রাসকে উসকে দেয়ার স্পেস? তারা ন্যাশনাল ইলেকশনে অংশগ্রহণ করেনি, কিন্তু লোকাল গভর্নমেন্টের ইলেকশনে তো অংশগ্রহণ করেছে। তাহলে বলবেন, কী করে যে তাদের স্পেস দেয়া হয় না বা করতে দেয়া হয় না। আসলে তাদের সেভাবে রাজনীতি করার আগ্রহ নেই, লুটপাট করার আগ্রহ আছে, দুর্নীতি করার আগ্রহ আছে—সেই সুযোগটা পাচ্ছে না বলেই চিৎকার করছে। নইলে কথা তো আমরা কারো কাছ থেকে কথা নিচ্ছি না। যার যা ইচ্ছা, তারা বলেই যাচ্ছে। তারা মিটিং করছে, র্যা লি করছে, সবই তারা করছে।’
শেখ হাসিনা জানান, অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তার সরকার এগিয়ে চলছে—এ চলার পথের শক্তি দেশের মানুষের আস্থা অর্জন।
এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দৈন্য কেটে মানুষের মধ্যে এখন আস্থা-বিশ্বাস ফিরে এসেছে, মানুষ সুখে আছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে ঘুরে কোথায় কী প্রয়োজন আর কী করতে হবে, সে প্রস্তুতি তিনি আগেই নিয়েছিলেন। আর তিনি মনে করেন, এতে সাফল্য এনেছে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির আন্তরিকতা।
শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে তার সরকার, দেশবাসী এখন এ বিষয়ে সচেতন ।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, তাদেরও বিচার হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার আমাদের জাতীয় দায়িত্ব ছিল— জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ ছিলাম আমরা। বঙ্গবন্ধু এই বিচার শুরু করেছিলেন।
জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সেই বিচার বন্ধ করে সমস্ত অপরাধীকে মুক্ত করে দেয়— ১১ হাজার সাজাপ্রাপ্ত ছিল, ২২ হাজার মামলা হয়েছিল। কত দুর্ভাগ্য, যে বিরোধী দল এখন রাজনীতির জায়গা চায়, তারাই এসব যুদ্ধাপরাধীকে মন্ত্রী করেছিল। যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, মন্ত্রী বানিয়েছে যারা, তাদেরও বিচার হওয়া উচিত বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।’
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তার সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার গঠনের পর গত সাড়ে সাত বছরে তার সরকার দেশে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নিয়ে এসেছে। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বিনা মূল্যে প্রায় ৩০ প্রকারের ওষুধ দেয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের আমলে পাঁচ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উন্নীত হয়েছে। এখনো যারা হতদরিদ্র, তাদের অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১০ টাকায় চাল বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার সুবিধা পাচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ।
তিনি বলেন, ‘আমরা যে সময় সরকার গঠন করি, তখন বিশ্বব্যাপী চরম অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজ করছে—এ অবস্থার মধ্যেই আমরা প্রবৃদ্ধি প্রায় পাঁচ বছর ধরে ছয় ভাগের ওপরে ধরে রেখেছি। এবার আমরা সাত ভাগে চলে এসেছি।’
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। অভিভাবক, শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমরা ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছি। এটাই মূল শক্তি। আর অন্যান্য দেশের সঙ্গে যেসব আলোচনা হচ্ছে, তা টেকনিক্যাল সাপোর্ট, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ইত্যাদির জন্য। আমি মনে করি, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা যেমন তৎপর, তেমনি দেশবাসীও এখন সচেতন। তারাই খবর দিচ্ছে, তারাই প্রতিরোধ করছে।’
গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আমরা মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যে জিম্মি উদ্ধার করেছি এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছি।’