কোটি টাকার ই-টোকেন বাণিজ্যের ফাঁদে পড়ছে দেশের লাখ লাখ মানুষ— ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন জমা দেয়ার সময় বা ই-টোকেনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দালাল চক্র। এ দালালরা পাসপোর্ট প্রতি ৩-৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে ভারতে গমণেচ্ছুদের কাছ থেকে। ভিসা পাওয়ার চেয়ে আবেদন জমা দেয়ার পদ্ধতি দিন দিন আরো জটিল হয়ে যাচ্ছে।
বন্ধু প্রতীম দুই দেশের মধ্যে মানুষে মানুষে যোগাযোগ দৃঢ় করতে চাইলে দালালচক্রকে যেকোনোভাবে প্রতিহত করতে হবে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
ভারতে গমণেচ্ছু হাজারো মানুষের একই অভিযোগ। ভিসা পাওয়া সহজ হলেও ভিসার আবেদন জমা দিতে পোহাতে হয় সীমাহীন ভোগান্তি। প্রত্যেক টুরিস্টকে ৩-৪ হাজার টাকার বিনিময়ে দালালদের মাধ্যমে ই-টোকেন সংগ্রহ করে ভিসার আবেদন জমা দিতে হয়।
আর জরুরি ভিসার দরকার হলে ফি বেড়ে যায় দ্বিগুন। আবেদন ফি ছয়শো টাকা হলেও অতিরিক্ত এ টাকা আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটর এবং কম্পিউটার কম্পোজ ব্যবসায়ীদেরই নিতে দেখা যায়। তবে তাদের বক্তব্য, তারা তৃতীয় পক্ষ হয়ে কাজ করেন।
ভারতীয় হাই- কমিশন সূত্র জানা গেছে, বাংলাদেশে ভিসা দেয়ার জন্য তাদের অনুমোদিত কোনও এজেন্ট বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নেই, ভিসা পদ্ধতিও অনেক সহজ করা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষ কে বা কারা? আর ভিসা প্রক্রিয়া যদি সহজ করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ সহজেই অনলাইনে ফরম পূরণ করে ই-টোকেন কেন পাচ্ছে না আর দালালরাই বা পাচ্ছে কিভাবে?
জানা গেছে, ৩-৪ ধাপে দালালরা কাজ করে থাকে, চতুর্থ পর্যায়ের দালালরা কাজ করে মাঠ পর্যায়ে। আবেদন জমা দেওয়ার বিভিন্ন স্থানে ভিসা প্রার্থীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে তারা।
এছাড়াও প্রতিবছর গড়ে ১০ লাখ বাংলাদেশি ভারতে যান বিভিন্ন ইস্যুতে। শুধু গত বছরেই গেছে ১৪ লাখ লোক। সে হিসেবে চিকিৎসা, প্রবীণ, গণমাধ্যমসহ কয়েকটি স্তর বাদ দিলেও এই ভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দালালরা বছরে আয় করছে কোটি কোটি টাকা।
দালালদের দৌরাত্মের বিরুদ্ধে কিছু দিন আগে ই-মেলের মাধ্যমে প্রতিবাদে নেমেছিলেন বাংলাদেশের বহু সাধারণ ভিসা প্রার্থী। এভাবেই ভারতীয় হাইকমিশন এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ভিসা নিয়ে ভোগান্তির বিবরণ তুলে ধরেন তারা।
এ সব আমলে নিয়ে ভোগান্তি কমাতে হাইকমিশন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা চিঠি দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত দালালদের বিষয়ে প্রত্যক্ষ কোনও ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি আইনশৃংখলা বাহিনীকে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আর দৃঢ় করা এবং মানুষে মানুষে সম্পর্ক স্থাপনে ভিসা প্রক্রিয়া সহজের বিকল্প নেই। দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সহজলভ্যতার পরামর্শ তাদের।
ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশ থেকে বারো ক্যাটাগরির ভিসা ইস্যু করে থাকে। শুধু ভ্রমণ ভিসার আবেদন জমা দেয়ার জন্যই ই-টোকেনের প্রয়োজন হয়।