আগামী নভেম্বরে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে— সার্কের বর্তমান সভাপতি নেপালের স্থানীয় পত্রিকা কাঠমান্ডু পোস্টের একটি খবরে একথা জানানো হয়।
এদিকে, সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের যোগ না দেয়ার বিষয়টিও আজ- বুধবার নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের কারণেই বাংলাদেশ সার্ক সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
আর কাশ্মির সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে মঙ্গলবারই এ সম্মেলনে যোগ না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দিল্লি। পাশাপাশি ভুটান ও আফগানিস্তানও এতে যোগ দিচ্ছে না।
সার্ক সনদ অনুযায়ী এই আঞ্চলিক জোটের কোনো সদস্য দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান যোগদান না করলে সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপের কারণেই সার্ক সম্মেলনে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। যুদ্ধাপরাধীদেরে বিচার নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ইসলামাবাদের ঔদ্ধত্বপূর্ণ্য মন্তব্যের কারণে দেশটিকে বারবার সতর্ক করা হলেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে পাকিস্তান।
গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একই কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কাঠমান্ডুতে সার্ক সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া এবং তা নিয়ে কূটনীতিক টানাপড়েনের মধ্যেন বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্কের সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিল।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার বলেন, দেশের মধ্যেি বিভিন্ন বিষয়ে ‘ব্যয়স্ততার’ জন্য এবার সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যাওয়া হচ্ছে না।
এদিকে, ভারত, আফগানিস্তান, ভুটানও সম্মেলনে যাচ্ছে না—ফলে আগামী ৯ ও ১০ নভেম্বর ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশের যোগ দিতে না পারার বিষয়টি সার্কের বর্তমান সভাপতি দেশ নেপালকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সেনা ব্রিগেডে সন্ত্রাসী হামলায় ভারত ও পাকিস্তানের টানাপোড়েনের জের ধরে শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গতকাল সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ তার টুইট বার্তায় লেখেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন থেকে সরে দাঁড়াল ভারত।
সার্ক সনদ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার আট জাতির এ জোটের সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নিতে হয়। অর্থাৎ, কোনো বিষয়ে একটি দেশের আপত্তি থাকলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। কাজেই বাংলাদেশ, ভারতসহ চার দেশ না যাওয়ায় কার্যত সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেল।
এদিকে, ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, আফগানিস্তান, ভুটান, বাংলাদেশও সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিকাশ স্বরূপ তার টুইটে বলেন, সার্কের সভাপতি দেশ নেপালকে ভারত জানিয়েছে, এ অঞ্চলে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যাওয়ায় এবং সদস্যদেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একটি দেশের হস্তক্ষেপ বেড়ে যাওয়ায় এমন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে, যা নভেম্বরে ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের জন্য সহায়ক নয়। আঞ্চলিক সহযোগিতা, কানেকটিভিটি ও যোগাযোগের ব্যাপারে ভারত তার অঙ্গীকারের ব্যাপারে অবিচল আছে। ভারত বিশ্বাস করে, শুধু সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশেই এসব এগিয়ে নেয়া সম্ভব। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষে ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়া সম্ভব নয়।
বিকাশ আরো বলেন, আমরা বুঝতে পারছি, সার্কের আরো কয়েকটি দেশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ইতিমধ্যে তাদের আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছে।
এছাড়া, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসির জাকারিয়া টুইট বার্তায় লিখেছেন, সার্ক সম্মেলনে যোগ না দেয়ার ব্যাপারে ভারতের মুখপাত্রের টুইট তারা দেখেছেন। তবে এ ব্যাপারে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানকে কিছুই জানায়নি। ভারতের এই ঘোষণাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। নাসির জাকারিয়া আরও লিখেছেন, ‘পাকিস্তান শান্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা এই অঞ্চলের জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করে যাব।’