জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মদিন আজ- বুধবার। ১৯৪৭ সালের এ দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার বিভীষিকা থেকে ভাগ্যচক্রে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। তিন দফায় নির্বাচিত হয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে জাগ্রত করার পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আর দেশকে শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া। জাতির জনকের জন্ম-ধন্য মধুমতী নদী তীরের এ গ্রামেই বঙ্গবন্ধু মুজিব ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ঘর আলো করে শেখ হাসিনার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনার লেখাপড়ায় হাতেখড়িও ওই টুঙ্গীপাড়ার পাঠশালাতেই।
ছোটবেলা থেকে পিতা মুজিবের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গেই শেখ হাসিনার বড় হয়ে ওঠা। বঙ্গবন্ধুর ইতিহাসের মহানায়ক হয়ে ওঠার দৃষ্টান্তের সামনেই পথ হেঁটেছেন শেখ হাসিনাও।
এই ইতিহাস-যাত্রায় বঙ্গবন্ধু পরিবার যখন থেকে ঢাকায় তখন শেখ হাসিনা স্কুলছাত্রী। ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন তিনি। ততদিনে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে গেছেন শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগকর্মী থেকে নেতৃত্ব পর্যায়ে একসময় হন কলেজ সংসদের ভিপি, রোকেয়া হলে ছাত্রলীগের জিএস। আন্দোলন-সংগ্রামে মিছিলের সাহসী মুখ ছিলেন শেখ হাসিনাও।
এর মধ্যেই শেখ হাসিনার বিয়ে হয় তরুণ বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বন্দী দিন যাপন করেন ধানমন্ডিতে। আর '৭৫-এর ১৫ আগস্ট যেদিন বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের ওপর হত্যাযজ্ঞের বিভীষিকা নেমে এলো সেদিন শেখ হাসিনা তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে ছিলেন বিদেশে।
পঁচাত্তরের উল্টো যাত্রা থেকে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনা শুধুমাত্র শেখ হাসিনার কারণেই সম্ভব হয়েছে জানান
ভাগ্যচক্রে বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনা সেই নির্বাসন জীবন শেষে দেশে ফিরেন ১৯৮১ সালের ১৭ মে। গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব। সেই থেকে সাড়ে তিন দশক ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের।
বিশিষ্টজনরা বলেন, আত্মমর্যাদাশীল জাতি ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে বাঙালি ও বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে তাঁর লড়াই অবিরত।
জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন সইতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। কখনো রাজপথে, কখনো প্রকাশ্য জনসভায় ... বারবার ঘাতকের বুলেট তাড়া করেছে তাকে। তবুও দমেননি মুজিবকন্যা।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ এই পাঁচ বছর, আর ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত -- শেখ হাসিনার সাড়ে ১২ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে বহুদূর। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতি আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রশ্নে শেখ হাসিনাই শেষ কথা।