স্বাধীনতা বিরোধীদের এদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই; পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না—এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সার্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সভাপতি দেশ নেপাল।
রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরের নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় তিনি জাতিসংঘের পুরস্কার দেশের জনগণের জন্য উৎসর্গ করেন।
এ সংবাদ সম্মেলন শুরুতে কানাডার গ্লোবাল ফান্ড সম্মেলন এবং যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সফরে ‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।
পরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শেখ হাসিনা।
যুদ্ধাপরাধের বিচারে হস্তক্ষেপের কারণেই বাংলাদেশ সার্ক সম্মেলনে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে সরকার আপোষহীন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আরো বলেন, এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বাংলাদেশ কখনও সহ্য করবে না। তবে এ ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত বেধে গেলে বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সার্কের ভবিষ্যত কি ? সার্ক কর্যকরের বিকল্প কোনো চিন্তা আছে কিনা ? এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন সদস্যরাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে।
ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন— দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সরওয়ার প্রশ্ন রাখেন, প্রতিবার সম্মেলনের আগে কেবল সাধারণ সম্পাদক বা অন্যব পদে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে তা নিয়েই আলোচনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সবাই বিষয়টি দলের সভাপতির ওপরই ছেড়ে দেন। আসছে ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনা কীভাবে দলের সংস্কার করতে চান।
জবাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা যেভাবে চাইবেন সেভাবেই সব হবে তবে আমার তো ৩৫ বছর হয়ে গেছে। আমাকে যদি রিটায়ার করার সুযোগ দেয় তাহলে আমি সব থেকে বেশি খুশি হব।
হাসিনা আরো বলেন, ‘আমি থাকব— দল ছেড়ে তো আমি যাচ্ছি না, যদি নতুন নেতা নির্বাচিত করা হয়, তাহলে সব থেকে বেশি আনন্দিত হব।
যা করেছেন এ সফরে:
গত ১৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে একদিন অবস্থানের পর শেখ হাসিনা মন্ট্রিলে ‘ফিফথ রিপ্লেসমেন্ট কনফারেন্স অব দ্য গ্লোবালফান্ড (জিএফ)’-এ যোগ দেন। ১৬ সেপ্টেম্বর মন্ট্রিয়ালের হায়াত রিজেন্সিতে এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার পর তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন। সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনের পর কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।
কানাডা সফর শেষে শেখ হাসিনার ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্ক পৌছান। ১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদরদপ্তরে উদ্বাস্তু ও অভিবাসনের উপর সাধারণ পরিষদের উচ্চপযার্য়ের প্ল্যানারি বৈঠকে ভাষণ দেন। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সাং সু চির সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
শেখ হাসিনা জাতিসংঘে ‘গ্লোবাল কমপেক্ট ফর সেফ’, ‘রেগুলার অ্যান্ড অর্ডালি মাইগ্রেশন: টুওয়ার্ডস রিয়ালাইজিং দ্য ২০৩০ এজেন্ডা ফরসাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাচিভিং ফুল রেসপেক্ট ফর দ্য হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড মাইগ্র্যান্টস’ শীর্ষক গোলটেবিলে কো-চেয়ারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনের সাধারণ আলোচনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে আয়োজিত কাউন্টার টেররিজমের উপর এশিয়ান লিডার্স ফোরামের বৈঠকে অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আয়োজিত উদ্বাস্তু বিষয়ক একটি বৈঠকও যোগ দেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় বক্তব্য রাখেন। পরে নিউইয়র্কে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
শেখ হাসিনা ২২ সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়ার উদ্দেশে নিউ ইয়র্ক ছাড়েন। সফরের সর্বশেষ কর্মসূচিতে বুধবার সেখানে বাংলাদেশিদের দেওয়া একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা থাকলেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর জন্য তা পিছিয়ে যায়। ১৭ দিনের সফর শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি দেশে ফেরেন।