এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানীর ৩২১টিসহ চার মহানগরীতে ৪ শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল এ নির্দেশনার কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঢাকায় ৩২১টি, চট্টগ্রামে ২৪টি, খুলনায় ৪০টি ও সিলেটে ৩১টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে এসব ভবনের পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ভবন মালিকরা উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ভবনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরবর্তী করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সচিব আরো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় সচিবালয়ের ৩ ও ৪ নম্বর ভবন ও সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভবনও রয়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে শক্ত হওয়ায় এসব ভবন না ভেঙে সংস্কার করে তা মজবুত করা হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল এসব তথ্য জানান।
আগামী ৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় এ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভূমিকম্পে করণীয় বিষয়ে এক মহড়া প্রর্দশন উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সচিব শাহ কামাল বলেন, রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৪ নম্বর ভবনসহ দুটি ভবন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন ও ফায়ার সার্ভিস বিল্ডিং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় রয়েছে।
তবে শিগগিরই এসব ভবনে রেকটিফিটিংয়ের কাজ শুরু হবে বলেও তিনি জানান।
সচিব বলেন, রাজধানীর বাইরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ২৪ট, খুলনায় ৪০টি ও সিলেটে ৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে— এরমধ্যে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে।
তিনি বলেন রাজধানীসহ এসব শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে যেগুলো হেরিটেজ ভবন সেগুলো রেকটিফিটিং ও অন্যগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে ভবন মালিকদের ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ভবনগুলো ভাঙ্গা না হলে, পূর্ত মন্ত্রণালয় পরবর্তী করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শাহ কামাল বলেন, আগামী ১৩ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস’। এ কারণে ৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় সচিবালয়ের অভ্যন্তরে ভূমিকম্প বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মহড়া অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছে। সচিবালয়ের ৩৫টি মন্ত্রণালয়কেই মহড়ায় অংশগ্রহণের আহবান জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, মহড়ার কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত ও মহড়া পরিচালনা করবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে-ভূমিকম্পে করণীয় এবং অগ্নি প্রতিরোধ, নির্বাপক, উদ্ধার ও জরুরি বর্হিগমন বিষয়ক মহড়া। এটি সচিবালয়ে ভূমিকম্পে করণীয় বিষয়ক দ্বিতীয় মহড়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সচিব আরো বলেন, দিবসটি উপলক্ষে ১০ অক্টোবর সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সদরঘাটে ভূমিকম্পে করণীয় বিষয়ে একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা, অতিরিক্ত সচিব জাকির আহমেদ প্রমুখ বক্তৃব্য রাখেন।