জাতীয়

জেলা পরিষদ আইন সংশোধন বিল সংসদে বিল

পদ ছেড়ে নির্বাচন করতে পারবেন জেলা পরিষদের প্রশাসকরা

সংসদ
সংসদ

জেলা পরিষদের প্রশাসকদের বর্তমান পদ ছাড়ার বিধান যোগ করে জেলা পরিষদ আইন সংশোধন বিল পাস করেছে সংসদ।

বৃহস্পতিবার সংসদে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ সংক্রান্ত ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০১৬’ পাসের প্রস্তাব করলে পরে পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে বিলের ওপর বিরোধীদল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সদস্যদের দেয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।

গত মঙ্গলবার বিলটি সংসদে তোলা হলে তা পরীক্ষা করে একদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে যা আছে:

জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসকরা নির্বাচন করতে চাইলে তাকে পদ ছাড়তে হবে। জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের শপথ নেয়ার সময় তাদের পরিচিতির জন্য পিতা বা স্বামীর নামের সঙ্গে মায়ের নামও এখন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইনে পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাময়িক বরখাস্তের বিধান ছিল না। পাস হওয়া বিলে আদালত কর্তৃক চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়া সাপেক্ষে সাময়িক বরখাস্তের বিধান রাখা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদের জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ ছিল না। এখন তারা ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া নির্বাচন পরিচালনা এবং এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনকে দেয়া হয়েছে। বর্তমান আইনে জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দুর্নীতি বা নির্বাচনী অপরাধ করলে সাত বছরের সাজার বিধান রয়েছে— আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান যোগ করা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে নির্বাচন সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সাব-জজ পদের কর্মকর্তার সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান হয়েছে। এখন ওই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে ‘যুগ্ম জেলা জজ’ রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

তিন পার্বত্য জেলা বাদে বাংলাদেশের ৬১টি জেলা পরিষদে ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তাদের মেয়াদপূর্তিতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ২৯ আগস্ট বিলটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়। ওই সময় সংসদ অধিবেশন না থাকায় ৫ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে আইন করার জন্য বিলটি পাস করা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর বিবৃতিতে জেলা পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিষয়ে জনআকাঙ্ক্ষার কথা বলা হয়েছে।

নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা জেলা পরিষদগুলো পরিচালিত হলে জনগণের আশা-আকাঙ্খার সফল বাস্তবায়ন হবে। বিদ্যমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে জেলা পরিষদ আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়ায় আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শেষ হলো দশম জাতীয় সংসদের ১২তম অধিবেশন আজ-বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের অধিবেশন সমাপ্তি সম্পর্কিত ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে অধিবেশন শেষ করা হয়।

এর আগে আজ সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাপনী ভাষণ দেন। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ সমাপনী বক্তব্য দেন।

স্পিকার এই অধিবেশনে সরকার ও বিরোধীদল নির্বিশেষে সবাই কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান।

স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় সহযোগিতা করায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপসহ হুইপগণ, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, সকল সংসদ সদস্য, ডেপুটি স্পিকার ও সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, মিডিয়া কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। দশম জাতীয় সংসদের ১২তম অধিবেশন ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হয়।

মোট ১০টি কার্যদিবসের এ অধিবেশনে উত্থাপিত ৮টি বিলের মধ্যে ৬টি বিল পাস হয়। আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত কাজ সম্পাদনের পাশাপাশি কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে ৩১৮টি নোটিশ পাওয়া যায়। নোটিশগুলো থেকে ১৮টি গৃহীত নোটিশের মধ্যে ৬টি আলোচিত হয়। এছাড়া ৭১(ক) বিধিতে দুই মিনিটের আলোচিত নোটিশের সংখ্যা ছিল ১০৪টি।

এছাড়া এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দানের জন্য সর্বমোট ১৫৬টি প্রশ্ন পাওয়া যায়। তার মধ্যে তিনি ২৮টি প্রশ্নের উত্তর দেন। মন্ত্রীদের জন্য আনা ২ হাজার ৪শ’টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৬৮টি প্রশ্নের জবাব দেন।

এ অধিবেশনে নারী-পুরুষের সমতা এবং নারী ক্ষমতায়নের জন্য জাতিসংঘ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে প্লানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন এন্ড এজেন্ট অব চেইঞ্জ অ্যাওয়ার্ড প্রদানে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে কার্য প্রণালী বিধির ১৪৭ বিধিতে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়।

এছাড়া এ অধিবেশনে জাতির পিতা হত্যাকারী ও মানবতা বিরোধী অপরাধীদের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হোক শিরোনামে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

সমাপনী ভাষণের পর স্পিকার দশম জাতীয় সংসদের ১২তম অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করেন।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ