গরু চোরা কারবারি বন্ধ না হলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ সম্ভব নয় জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
সম্প্রতি ভারতে শেষ হওয়া প্রতিবেশী দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ভারতের সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার ৯৫ ভাগই গরু চোরাচালানের কারণে ঘটছে এর সঙ্গে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টিও জড়িত। তাই গরু চোরাচালান রোধ করা গেলে সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা কমিয়ে আনার বিষয়টি আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, গরু যেহেতু ভারত থেকে আসে— তাই এই চোরাচালান বন্ধে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ভূমিকা মুখ্য।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিএসএফের প্রধানকে সীমান্ত দিয়ে গরু চোরাচালান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ সময় চলতি বছর বাংলাদেশের ২৬ জন নাগরিক সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছেন— তাদের মধ্যে ২২ জন বিএসএফের হাতে নিহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
ভারতে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি, জঙ্গিসহ ১২০০ অপরাধীর তালিকা দিয়েছে বিজিবিকে—এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশের যেসব অপরাধী ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে বিএসএফ বলে জানান তিনি।
ভারতের নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের ৪৩তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন শেষ হয়েছে গত ৫ অক্টোবর। ৬ দিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষে সম্মেলনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
প্রতিবারের মতো এবারের সম্মেলনেও সীমান্তে হত্যা বন্ধে ঐক্যমতে পৌঁছেছে উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী।
ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা বাংলাদেশের অপরাধীদের ফিরিয়ে নিতে ভারতের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান বিজিবি মহাপরিচালক।