সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিটালাইজেশন যাতে দেশের জনগণের ক্ষতির কারণ না হয় সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৬ সম্মেলনের উদ্বোধন করে এ কথা বলেন তিনি।
বিএনপির লুটপাটের চিন্তা পরিহার করে আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল বলেও এ সময় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
'ননস্টপ বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে শুরু হয়েছে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৬ সম্মেলন। এর উদ্বোধ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেউ যাতে অপরাধ কার্যক্রম চালাতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়নে বর্তমান সরকার নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৪০টি দেশে আইসিটি সেবা রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনা বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি উন্নয়নে প্রচেষ্টার জন্য এরইমধ্যে বিশ্ববাসীর সুনামও অর্জন করেছে বালাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জোট সরকার লুটপাট করেছে আর আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ছেলেমেয়েরা যাতে হাতেকলমে ডিজিটাল প্রশিক্ষণ নিতে পারে সেজন্য দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২১ সালের আগে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে এবং ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহান চলবে।
এ মেলা নিয়ে কিছু কথা:
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক দেশের সবচেয়ে বড় মেলা ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৬। ‘ননস্টপ বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত আগামী শুক্রবার থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে তবে প্রবেশ মূল্যও রাখা হচ্ছে না।
প্রায় ৪০টি মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে কি কি সেবা দিচ্ছে তার আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হবে এখানে। এতে শীর্ষস্থানীয় শতাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের ডিজিটাল কার্যক্রম তুলে ধরবে।
তিন দিনব্যাপী এ মেলায় মাইক্রোসফট, ফেসবুক, একসেন্সার, বিশ্বব্যাংক, জেডটিই, হুয়াওয়েসহ খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন বিদেশি বক্তাসহ দুই শতাধিক বক্তা ১৮টি সেশনে অংশ নিয়েছেন।
এছাড়া নেপাল, ভুটান, সৌদি আরবসহ ৭টি দেশের ৭ জন মন্ত্রী এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে অংশ নেবেন।
স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে আইটি ক্যারিয়ার বিষয়ক সম্মেলনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে থাকবে ডেভেলপার সম্মেলন। এছাড়া সফটওয়ার শো-কেসিং, ই-গভর্নেন্স এক্সপোজিসন, মোবাইল ইনোভেশন, ই-কমার্স এক্সপো, স্টার্টআপ জোন ছাড়াও থাকবে আইটি সংশ্লিষ্ট ১২টি সেমিনার। আয়োজন করা হবে ডেভেলপমেন্ট পার্টনার্স কনফারেন্স, আইসিটি এডুকেশন সম্মেলন।
প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকবে কালচারাল প্রোগ্রাম। তিন দিনে ৫ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হবে আইসিসিবিতে।
এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে www.digitalworld.org.bd ওয়েবসাইটে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচির পরিচালক কবীর বিন আনোয়ার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার প্রমুখ।