রোজ গার্ডেন থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান— লড়াই, সংগ্রাম, আন্দোলন দীর্ঘ ৬৭ বছরের পথচলায় ১৯টি সম্মেলন হয়েছে আওয়ামী লীগের। পাকিস্তান আমলে ৮ বার আর স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১১টি জাতীয় সম্মেলন করেছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া এ দলটি।
এখন পর্যন্ত মোট ৭ জন আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছেন আর সর্বোচ্চ ৭ বার সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। ৩ বার সভাপতি হয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর ৯ জন হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক।
আর সবচেয়ে বেশি চার মেয়াদে এ পদে থেকেছেন বঙ্গবন্ধু ও জিল্লুর রহমান।
১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনে ৩০০ জন কাউন্সিলরের অংশগ্রহণে আত্মপ্রকাশ করে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগ। সভাপতি হন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আর সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। কারারুদ্ধ অবস্থায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৫৫ সালের তৃতীয় সম্মেলনে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নামকরণ হয় আওয়ামী লীগ। সভাপতি হন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৫৭ সালে চতুর্থ সম্মেলনের আগে দলে বিভক্তির জের ধরে ভাসানী দলত্যাগ করলে সভাপতি হন মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ। সাধারণ সম্পাদক থেকে যান শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৬৬ তে হোটেল ইডেনে ষষ্ঠ সম্মেলনে দলীয় ফোরামে ছয় দফা পাস করান শেখ মুজিব। তিনি র্নিবাচিত হন সভাপতি, আর সাধারণ সম্পাদক হন তাজউদ্দীন আহমদ।
পাকিস্তান আমলে মোট আটবার সম্মেলন হয় আওয়ামী লীগের। ছেষট্টি থেকে সত্তর, টানা তিনটি সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমদ সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদক হন।
১৯৭২ সালে সার্কিট হাউজ রোডে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদক হন জিল্লুর রহমান। ’৭৪ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান, দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালে সভাপতি হন এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে দলটি আর ’৭৭-এ একাদশ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো আহ্বায়ক কমিটি গঠন হলে, দলীয় প্রধান হন সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন।
পরের বছর দ্বাদশ সম্মেলনে সভাপতি হন আবদুল মালেক উকিল আর সাধারণ সম্পাদক হন আব্দুর রাজ্জাক।
১৯৮১ সাল আওয়ামী লীগের ১৩তম সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দলের ঐক্যের প্রতীক হয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সাধারণ সম্পাদক হন আব্দুর রাজ্জাক।
’৮২ তে আব্দুর রাজ্জাক দলত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। পরে ’৮৭ তে ১৪তম সম্মেলনে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ সম্পাদক হন তিনি।
’৯২ এর ১৫তম সম্মেলনে আবার সাধারণ সম্পাদক হন জিল্লুর রহমান। ’৯৭ এর সম্মেলনেও তিনি এ পদে থাকেন। ২০০২ সালে ১৭তম সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হন আব্দুল জলিল।
আর ২০০৯ সালে ২৪ জুলাই দলের ১৮তম সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হন সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এখন পর্যন্ত টানা ২ বার তিনি এ পদে রয়েছেন।
আর টানা ৩৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা।