সুন্দরবন দেশের সম্পদ আর তা রক্ষা করতেই এই নৌ-রুট চালু করা হয়েছে— এসময় রামপালে নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সমালোচনারও জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে পরিবেশবাদীদের এতো যে কান্নাকাটি তা সুন্দরবনের ভেতরের ২৩৪টি সংযোগখাল আর ঘষিয়াখালী চ্যানেল বন্ধ করার সময় সেই কান্না কোথায় ছিল?
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া কোনো আমলেই এ চ্যানেল ড্রেজিং করা হয়নি। বিএনপি আমলে এটি বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। সুন্দরবনকে দেশের সম্পদ অভিহিত করে তিনি বলেন, পরিবেশবাদীরা তখন কোথায় ছিলেন।
এ সময় মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটা সবসময় উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল উন্মুক্ত এবং ১১টি ড্রেজারের শুভ উদ্বোধন করেন।
বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ শুভ উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান গণভবনে এবং সচিব অশোক মাধব রায় ও বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক বাগেরহাট প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোংলা-ঘোষিয়াখালী নৌ-পথের দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার। এরমধ্যে ২৬ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ড্রেজার দ্বারা ১৮১ দশমিক ৮০ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং সম্পন্ন করা হয়েছে। ড্রেজিংকৃত অংশে পলি ভরাটের কারণে সংরক্ষণ খননের আওতায় সর্বমোট ৬২ দশমিক ১২ লক্ষ ঘনমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে।
বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর ৩টি ড্রেজার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫টি ড্রেজার অর্থাৎ সর্বমোট ০৮টি ড্রেজার সংরক্ষণ ড্রেজিং কাজে নিয়োজিত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, নৌ-পথটি চালুর ফলে ৮১ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে। এছাড়া মংলা-ঘষিয়াখালীর রমজানপুর এলাকায় একটি লুপকাট করায় আরোও ৫(পাঁচ) কিলোমিটার দূরত্ব হ্রাস পেয়ে মোট ৮৬ কিলোমিটার দূরত্ব হ্রাস পেয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ-এর নবনির্মিত ৮টিসহ মোট ১২টি ড্রেজার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬টি ড্রেজার ২০১৪ সালের জুনে নিয়োগ করে মংলা -ঘষিয়াখালী নৌ-পথটি পুনঃখনন শুরু করা হয়। নৌ-পথটি পুনঃখনন করার পর ২০১৫ সালের মে মাস হতে পরীক্ষামূলভাবে খুলে দেয়া হয় এবং ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন গভীরতায় মোট ৩৫,০১৫টি জাহাজ এ নৌ-পথে চলাচল করেছে। নৌ-পথটি ১৩-১৪ ফুট গভীরতায় ও ২০০-৩০০ ফুট প্রশস্ততা বিশিষ্ট করে সৃষ্টি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ২০১৩-১৪ সালের পূর্বে মাত্র ১০টি ড্রেজার দ্বারা সারাদেশের নাব্যতা সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনাতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন দু’টি প্রকল্পের অধীনে দেশীয় ড্রেজার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, ভোস্তা এলএমজি-কর্ণফুলী জয়েন্ট ভেঞ্চার লিমিটেড এবং আনন্দ শিপইয়ার্ডস লিমিটেড কর্তৃক দ্বিতীয় দফায় মোট ১১টি ড্রেজার নির্মাণ করা হয়। আগামীকাল সেগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এছাড়াও সরকারের বর্তমান মেয়াদে আরো ২০টি ড্রেজার নির্মাণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।