জলবায়ুর পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ প্রস্তাব শুভংকরের ফাঁকি— প্রাপ্য ক্ষতিপুরণ না দিয়ে এ ধরনের প্রস্তাবকে রীতিমত অন্যায় মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলো এর মাধ্যমে দায় এড়ানোর পথ খুঁজছে।
তাই বিশ্বব্যাংকের ২০০ কোটি ডলারের ঋণ না নিতে সরকারের প্রতি আহবান তাদের আর এ ২০০ কোটি ডলার বাংলাদেশকে ক্ষতিপুরণ হিসেবে দিতে, বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান, হাছান মাহমুদ।
যতো শিল্পায়ন বাড়ছে— ততো বাড়ছে উষ্ণতা। সঙ্গে বাড়ছে স্বল্পোন্নত ও দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর জীবন ও মানচিত্র টিকিয়ে রাখার হুমকি।
এ উষ্ণতার জন্য দায়ী কার্বন ডাইঅক্সাইড বাতাসে ছাড়ছে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন- ভারতের মত উন্নত দেশগুলো. আর তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশগুলোর উপর।
এমন প্রেক্ষাপটে, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির তালিকায় থাকা বাংলাদেশকে— ক্ষতি মোকাবেলায় ২০০ ডলার ঋণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের এ ঋণ নেয়া উচিত হবে না।
গত বছর প্যারিসে অনুষ্ঠিত কপ-২১ এ বিশ্বের ১৯৬টি দেশ একমত হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যেহেতু উন্নত দেশগুলো দায়ী— তাই এর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণও তারাই দেবে।
তাই ঋণের পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০০ কোটি ডলার দেওয়ার আহ্বান হাছান মাহমুদের।
তারা মনে করছেন, বিশ্ব ব্যাংকের এ অর্থ ঋণ হিসেবে নিলে—এটাকেই ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করতে পারে উন্নত বিশ্ব। যার দৃষ্টান্ত তারা আগেই স্থাপন করেছে।