বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজনে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
মঙ্গলবার দুপুরে আইন মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালে ১ নভেম্বর মাসদার হোসেন মামলার রায় অনুযায়ী বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণের কাজ শুরু হয়।
বিচার বিভাগের কাজে নির্বাহী বিভাগ কখনও হস্তক্ষেপ করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের গতিশীলতা আনতে সব কাজই করা হবে কাজ অনেক দূর এগিয়েছে, এটি অব্যাহত থাকবে।
প্রধান বিচারপতির বক্তব্য স্ববিরোধী—তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বর্তমান সংবিধানে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। বর্তমান সরকার বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করতে ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
তিনি বলেন, ১১৬ অনুচ্ছেদ বাহাত্তর সালের সংবিধানে যেতে পারলে ৯৬ অনুচ্ছেদ নয় কেন?
বাহাত্তরের সংবিধানে ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ছিল। আর ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলাবিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে।
তবে বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলাবিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা প্রযুক্ত হবে।
গতকাল নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকরণের নবম বর্ষপূর্তিতে প্রধান বিচারপতির সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দেয়া বাণীর বক্তব্য:
সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর ওই বিভাগের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের ধীরগতির অন্যতম কারণ। ১১৬ অনুচ্ছেদের ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি এবং শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে এককভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বৈত শাসনের ফলে বহু জেলায় শূন্য পদে সময়মতো বিচারক নিয়োগ সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচারকাজে বিঘ্ন ঘটে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়। এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদটি পুনঃপ্রবর্তন করা 'সময়ের দাবি'।
প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগে কাজের স্বাধীনতা হচ্ছে বড় জিনিস— প্রধান বিচারপতি তার বাণীতে যে প্রস্তাব দিয়েছেন এটা আমার কাছে অর্থবহ মনে হচ্ছে না, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা যা করা দরকার তাই করা হবে প্রয়োজনে ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করা যেতে পারে।
প্রধান বিচারপতিকে অনেক সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি— কিন্তু তিনি তার বাণীতে যা বলেছেন তার সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করছি—এ অভিমত দেন আইনমন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের বিচারকসহ অন্যদের বদলি, পদোন্নতি, অপসারণ—এগুলোর গুরুদায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর।
রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তিকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে—এ কথঅ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয় এখানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করে।
রাষ্ট্রপতির হয়ে আইন মন্ত্রণালয় বদলি, পদোন্নতি করছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সব সুপারিশ মেনে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে তার মন্ত্রণালয়।