আজ ৭ নভেম্বর— পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নভেম্বরে ঘটনাবহুল এ দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান আর রক্তপাতের ইতিহাস। ঘটনার ৪১ বছর পরেও দিনটিকে ঘিরে দুই আলোচিত নাম-কর্নেল তাহের আর জেনারেল জিয়াপন্থীদের বিতর্কের শেষ নেই।
তবে ১৫ আগস্ট আর ৭ নভেম্বরকে ঘিরে কুচক্রীদের আলাদা কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, ক্ষমতার লড়াইয়ের অবসান ঘটে ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে। এতে জিয়া জয়ী হলেও পরাজয় ঘটে তাহেরের। আর ফসল ঘরে উঠেছিল বিএনপির— পিছিয়ে পড়েছিল গণতন্ত্র।
একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। এদিন ঘাতকের বুলেটে সপরিবারে নিহত হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ।
আর এর ঠিক আড়াই মাসের মধ্যেই জেলের ভেতরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী চার জাতীয় নেতাকে।
নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় দেশের মানুষ দেখলো সেনা ছাউনি আর ক্ষমতাকেন্দ্রের টালমাটাল অবস্থা। এরইমধ্যে আসে ৭ নভেম্বর।
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা— ৩ নভেম্বরের জেল হত্যাকাণ্ড আর ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলীকে আলাদা করে দেখেন না ইতিহাসবিশ্লেষক মুনতাসীর মামুন।
তার মতে, এর ফসল ঘরে উঠেছে বিএনপির, উচ্চাভিলাষ পূরণ করেছেন জিয়া। কিন্তু, পিছিয়ে পড়েছিল গণতন্ত্র।
কর্নেল তাহের সেসময় সিপাহী-জনতার অভ্যূত্থান ঘটাতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে তার ভাই ড. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, তবে সেসময় জিয়া বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন।
তিনি আরো বলেন, ওই সময়ের প্রেক্ষাপটে সাময়িক ঐক্য গড়ে জিয়াকে মুক্ত করে নিজের আদর্শের প্রতিষ্ঠা চেয়েছিলেন কর্নেল তাহের।
তবে জিয়া যে বিশ্বাসঘাতকতার বীজ বুনেছিলেন, তা আজও তার উত্তরসূরীরা ধারণ করছেন।