শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ (বৃহস্পতিবার)— ২৯ বছর আগে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে বুকে-পিঠে স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগান লিখে মিছিলে শামিল হয়েছিলেন নূর হোসেন।
স্বৈরাচার এরশাদের নির্দেশে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন স্কয়ারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।যে উদ্দেশ্যে নূর হোসেনের এ আত্মত্যাগ তা আজো পূর্ণতা পায়নি বলে মন্তব্য করেন তারা।
১৯৮৭'র ১০ নভেম্বর। স্বৈরাচার শাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে স্বোচ্চার গোটা দেশ। ১৫ দল, সাত দল আর পাঁচ দলের নেতা-কর্মীর সঙ্গে ছাত্র-জনতা সচিবালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটকে ঘেরাও কর্মসূচিতে পরিণত করে।
এসময় বুকে-পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক—গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ এ স্লোগান লিখে মিছিলে অংশ নেন যুবলীগ নেতা নূর হোসেন। গণতন্ত্র পূর্ণরুদ্ধারের মিছিলে জীবন্ত পোষ্টার হয়ে নূর হোসেন ছিলেন সবার সামনে।
মিছিল চলাকালে স্বৈরাচারী সরকারের নির্দেশে মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ। জিরো পয়েন্ট এলাকায় ঘাতক বুলেট নূর হোসেনের শ্লোগানকে স্তব্ধ করে দেয়। সেই থেকে এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠেন শহীদ নূর হোসেন ।
দিনটি উপলক্ষে জিরো পয়েন্টে শহীদ নূর হোসেন স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নূর হোসেনের পরিবারের সদস্যরা। এ দিনকে স্বরণীয় করে রাখতে সরকারকে আরো আন্তরিক হওয়ার আহবান জানানো হয় শহীদের পরিবারের পক্ষ থেকে।
এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ দলটির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনও স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যে কোন ষড়যন্ত্র সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দলের নেতারা।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে, যে লক্ষ্যে নূর হোসেন জীবন দিয়েছিলেন, বর্তমান সরকার তা পদদলিত করেছে বলে অভিযোগ করে বিএনপি।
ভোটাধিকারসহ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে নূর হোসেন আত্মদানকে সার্থক করতে সরকারের কাছে আহ্বান জানান বাম নেতারা।