যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ী হওয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া বা ব্রেক্সিট দুটিই একই চেতনার প্রতিফলন বলে মনে করছেন দেশের বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার দেশ টিভির সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. দেলোয়ার হোসেন, আমেনা মহসিন এবং বিআইভিএসের ডিজি ড. কেএএস মুরশীদ।
তারা মনে করছেন, ব্রেক্সিটের মূলে ছিল চরম জাতীয়তাবাদ এবং অভিবাসন সমস্যা, ট্রাম্পের জয়ী হওয়ার পেছনেও এ দুটি চেতনাই মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
ব্রিটিশদের গ্রেট ব্রিটেন এবং ট্রাম্পের গ্রেট আমেরিকা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন কোনটিই বিশ্বের জন্য সুখকর হবে না বলেই মনে করছেন তারা।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যকে আলাদা করা বা ব্রেক্সিটের মূলে ছিল নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্থাৎ উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং অভিবাসন সমস্যা। অন্য কোন দেশের লোকের যুক্তরাজ্যে বসবাস এবং কাজের সুযোগের তীব্র বিরোধী ছিল সেখানকার শ্বেতাঙ্গরা।
ট্রাম্পও তার নির্বাচনী প্রচারণায় এসব বিষয়কেই প্রাধান্য দিয়েছেন। অভিবাসীদের বিতারিত করা, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও সামরিক জোটগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ভুমিকা কমিয়ে আনা চরম জাতীয়তাবাদ এবং গ্রেট আমেরিকা প্রতিষ্ঠা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরেরো কোন লোক যে কাজ ২ ডলারে করতে পারে সেখানে কোন ব্রিটিশ বা আমেরিকানকে দিতে হয় ১০ থেকে ১২ ডলার। তাই অভিবাসনের কারণে বেকার হয়েছে অনেক স্থানীয় লোকজন। এ অবস্থার কারণে ট্রাম্পকে ভোট দেয়া বা ব্রেক্সিটের মত সিদ্ধান্ত এসেছে বলে তারা মনে করছেন।
বিভিন্ন ধরনের চুক্তি এবং পারস্পারিক সাহায্য সহযোগিতার মাধম্যে পুরো বিশ্ব যখন একে অপরের আরো কাছে আসছে তখন ব্রেক্সিট এবং ট্রাম্পের কৌশল বিশ্বকে পেছনে ঠেলবে বলেই মনে করেন তারা।
তারা মনে করছেন, ট্রাম্প তার কথা এবং কাজের মধ্যে মিল-অমিলের উপর নির্ভর করবে পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক সমীকরণ।