গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর হামলার পর তাদের আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়িঘর করে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন –এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সচিবালয়ে বুধবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনার নেপথ্যে দলীয় কোন্দলের কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানান মন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কোথায় এসব বাড়িঘর তৈরি করে দেয়া হবে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর দেখবে।
এ সময় ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনার নেপথ্যে দলীয় কোন্দলের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এদিকে, দুপুরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনায় আইনগত কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা জানিয়ে প্রতিবেদন
দাখিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করে তিনটি সংগঠন হলো আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), ব্রতী সামাজিক কল্যাণ সংস্থা ও অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট।
গতকাল রংপুরের গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের জায়গা কখনোই সাঁওতালদের ছিল না—তাদের ব্যবহারকারী ভূমিদুস্যূ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
জঙ্গি কর্মকাণ্ডে ব্যর্থ হয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে— স্বার্থান্বেষী মহলের সে চেষ্টা সরকার ব্যর্থ করে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে ঘটাতে না পারে সেবিষয়েও সতর্ক নজরদারি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারের আইন শৃংখলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি আমু।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারি জমি দখলের জন্য ভূমিদস্যুরা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ব্যবহার করেছে বলে জানান তিনি।
গত ৬ নভেম্বর রংপুর চিনি কলের সাহেবগঞ্জ আখের খামারের স্থাপনা উচ্ছেদের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় তাদের। এতে ওই দিন একজন মারা যান। পরে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় ধানখেত থেকে। সাঁওতালদের অভিযোগ, শেষের জন ওই হামলায় আহত হয়ে মারা গেছেন।
আহত হন পুলিশসহ কমপক্ষে ৩০ জন। এছাড়া সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরেও আগুন দেয়া হয়।
হামলায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাংসদ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাঁওতাল নেতারা।
গতকাল রোববার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর গির্জার সামনে এক সমাবেশে তারা এ অভিযোগ করেন। সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, জাতীয় আদিবাসী ফোরাম ও বিশিষ্ট নাগরিকদের দুটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।