প্রশাসন থেকে সরকারি দলের তৃণমূল পর্যন্ত স্বাধীনতাবিরোধীরা সক্রিয় বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রদায়িক হামলা ঠেকানো যাচ্ছে না বলে মত দিয়েছেন রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্টজনরা।
তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজ আক্রান্ত—এই সুযোগে যুদ্ধাপরাধীদের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে তৃণমূলে।
বক্তারা বলেন, জিয়া-এরশাদকে পাশাপাশি রেখে বঙ্গবন্ধুর বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
এ সময় তারা দাবি জানান, রাষ্ট্রধর্ম তুলে দিতে হবে দিতে হবে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বিশপস্ কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় আদিবাসী ফোরামের চতুর্থ জাতীয় সম্মেলন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে পাহাড় ও সমতলের ভিন্ন জাতিসত্ত্বার সংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানান বক্তারা।
তারা বলেন, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের সমস্যা অভিন্ন।
সেমিনারে কথা বলেন, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য পঙ্কজ ভট্টাচার্য ও সাবেক মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলা রুখতে প্রশাসনের ব্যর্থতার সমালোচনা করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতা বিরোধীদের দৌরাত্ম্যের কারণেই সে নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না বলে মনে করেন মানবাধিকার নেতা সুলতানা কামাল ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।
জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেন, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থেই সংখ্যায় কম হলেও আদিবাসীদের অধিকার সমুন্নত রাখতে হবে।
ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সমাজের বঞ্চিত নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমেই সবার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে মত দেন বক্তারা।