সহিসংসতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রস্তাবনা গঠনমূলক অবস্থান হলেও এতে নতুনত্ব কিছু নেই—অভিমত ব্যক্ত করে নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলেন, প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নির্বাচনকালীন সময়ে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া প্রচ্ছন্নভাবে জামাতকে নির্বাচন কমিশন গঠনে সম্পৃক্ত করাসহ বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয় এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল।
শনিবার দেশ টিভিকে দেয়া এক স্বাক্ষাৎকারে তারা এসব কথা বলেন।
সর্বোপরি বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রস্তবনাগুলো মন্দ কী ভালো সেটি বিশ্লেষণ না করে একেবারে বাদ দিয়ে দেয়া উচিত নয় বলে মনে করেন ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য ও জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে খালেদা জিয়ার প্রস্তাবনায় নতুনত্ব কিছু না থাকলেও তার এ ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিৎ।
আর সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসের প্রস্তাবনাগুলো সরাসরি নাকচ না করে দিয়ে আরো সহনশীলতার সঙ্গে এটিকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন ছিল— উল্লেখ করে ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের (ফেমা) প্রধান মুনিরা খান বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাবনা থাকলেও এতে নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন ছিল।
পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নির্বাচনী কাজে না জড়ানোর পক্ষে অভিমতও ব্যক্ত করেন বিশ্লেষকরা।
গতকাল শুক্রবার স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে ৭ দফা এবং এর অধীনে কীভাবে আগামী নির্বাচন হবে সে ব্যাপারে ১৩ দফা প্রস্তাব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। যাতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের দাবি জানান তিনি।
একইসঙ্গে স্বাধীনতার পর থেকে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের মতামতের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং এক নারীসহ ৪ কমিশনার নিয়োগের প্রস্তাবের পাশাপাশি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা ও নির্বাচনের সময় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ম্যাজিস্টেরিয়াল ক্ষমতা প্রদান করে মোতায়েনের দাবিও জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।
তবে এ প্রস্তাবের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপি চেয়ারপারসনের দেয়া ফর্মুলা অন্তঃসারশূন্য। এ প্রস্তাব চর্বিত চর্বণ— জাতির সঙ্গে তামাশা।