জাতীয়

শান্তিচুক্তির ১৯ বছর, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের ভেঙেছে বিশ্বাস: সন্তু লারমা

সন্তু লারমা
সন্তু লারমা

দীর্ঘ উনিশ বছরে প্রতারিত হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ, ভেঙেছে বিশ্বাস –এ মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা।

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৯ বছর পূর্তিতে এমনই মূল্যয়ন করে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের দালালে পরিণত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

তিনি আরো বলেন, গোটা পার্বত্য অঞ্চল আজ উপনিবেশে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ১৯তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সন্তু লারমার অভিযোগ, উন্নয়নের নামে পাহাড়ে যা হচ্ছে তাতে করে অস্তিত্ব বিপন্ন হবে আদিবাসীদের।

লামরা বলেন, সেনাবাহিনী আইন লঙ্ঘন করে জমি দখল করে নিচ্ছে।

এ সময় হুঁশিয়ার করে দেন যে ১০ দফার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে তাতে শাসকগোষ্ঠী অস্ত্র ব্যবহার করলে স্থির থাকবে না পাহাড়বাসী বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্টজনেরা বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির সঙ্গে বিশ্বাঘাতকতা করেছে আওয়ামী লীগ। পাহাড়ে বঞ্চণার বোধ বাড়তে থাকলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় পালিত হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ১৯তম বর্ষপূর্তি।

এদিকে, সকালে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে টাউনহলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে টাউনহলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আজ ২ ডিসেম্বর। ১৯৯৭ সালের আজকের এই দিনে বাংলাদেশ সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ ২৪ বছরের সশস্ত্র লড়াই শেষে আত্মসমর্পণ করে প্রায় দুই হাজার গেরিলা। কিন্তু এরপর ১৯ বছরেও চুক্তির অনেক ধারার বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়িদের মধ্যে বিরাজ করছে অবিশ্বাস আর সংশয়। সরকারের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ আনছেন তারা।

জলবিদ্যুতের জন্য কাপ্তাইবাধ তৈরি, রাজনৈতিকভাবে বাঙালি পুনর্বাসনসহ নানা কারণে পাহাড়ে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল। প্রায় দুই যুগের ও বেশি সময় চলে এই সশস্ত্র সংঘাত। এর অবসান ঘটাতে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার জনসংহতি সমিতির সঙ্গে পার্বত্য শান্তিচুক্তি করে। চুক্তির ফলে সশস্ত্র সংগ্রাম থেকে ফিরে আসে পাহাড়ি গেরিলারা। কিন্তু এরপর দীর্ঘ ১৯ বছরেও প্রত্যাশিত চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে পাহাড়িদের মধ্যে।

সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই দাবি করা হয় শান্তিচুক্তির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। ভুমি সমস্যাসহ চুক্তির সামান্য যে অংশ অবাস্তাবয়িত রয়েছে তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু শান্তিচুক্তির মৌলিক বিষয় ও শর্ত বাস্তবায়ন হয়নি বলে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে জনসংহতি সমিতি।

অন্যদিকে পাহাড়ে বাঙালিদের একটি বড় অংশ এই চুক্তিকে নিজেদের অধিকার হারানোর দলিল মনে করে। তারা মনে করছেন এ চুক্তিতে শুধুমাত্র পাহাড়িদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হলেও বাঙালিদের কথা চিন্তা করা হয়নি।

তবে এই শান্তি চুক্তি নিয়ে নানা মত থাকলেও পাহাড়ের মানুষেরা মনে করেন এ চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে পার্বত্য সমস্যার ইতিবাচক সমাধান সম্ভব্। এ জন্য সরকারের সদিচ্ছার প্রতি গুরুত্বারোপ করছেন তারা।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ