ময়মনসিংহের বাঘমারায় চিরনিদ্রায় সমাহিত হলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা ও পৈত্রিক নিবাসে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার ময়নাতদন্ত করা হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ সর্ম্পকে নিশ্চিত হতে পারেনি ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকরা।
ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানতে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
গতকাল বিশিষ্ট কবি ও লেখক, এক সময়ের তুখোর ও মেধাবী ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুল হক শাকিল রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর।
শাকিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়্ত্বি পালন করছিলেন।
গুলশান থানার উপপরিদর্শক সোহেল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গুলশানের ওই রেস্টুরেন্টের একটি কক্ষে মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ রাখা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বলেন, শাকিলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর এ বিশেষ সহকারীর মৃত্যুসংবাদ শোনার পর ওই রেস্টুরেন্টে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুসহ অনেকে ছুটে যান।
এ সময় মন্ত্রীবিপু বলেন, শাকিলের মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে, বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জানাজা হবে। এরপর তার মরদেহ নেয়া হবে তার নিজ শহর ময়মনসিংহ। সেখানে বাঘমারা এলাকায় নিজ বাড়িতে সন্ধ্যায় তাকে দাফন করা হবে।
উল্লেখ, ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে নবগঠিত আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সেল সিআরআই পরিচালনার দায়িত্ব পান ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিল। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিবের দায়িত্ব পান তিনি। চার বছর পর তাকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) করা হয়।
এরপর ২০১৪ সাল থেকে অতিরিক্ত সচিব মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
পৈত্রিক নিবাস ময়মনসিংহ: জন্ম ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলে। তার বাবা অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাতা শিক্ষক।
আইনজীবী-শিক্ষক দম্পতির সন্তান শাকিল ময়মনসিংহ জেলা স্কুল ও আনন্দমোহন কলেজে পড়েছেন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।
কবিতা লেখার শখ ছিল তার:
প্রকাশিত বই- খেরোখাতার পাতা থেকে ও মন খারাপের গাড়ি। তিনি আইনজীবী স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।