বেগম রোকেয়া দিবস আজ (শুক্রবার)— বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী।
তার লেখায় আর উন্নয়নমূলক কাজে রক্ষণশীল সমাজের বাধার দেয়াল ভেঙে নারীর জন্য তিনি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন শিক্ষার আলো। দেখিয়েছেন এগিয়ে যাওয়ার পথ। আঘাত হেনেছেন সমাজের বৈষম্যমূলক আচরণে।
নানা অনুষ্ঠানে, আয়োজনে পালিত হচ্ছে বেগম রোকেয়া দিবস। তবে, প্রধানমন্ত্রী ও আদালতের নির্দেশের পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রংপুরে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি ১২ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি।
তাই, দেশের দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের হতাশ হয়েই ফিরে যেতে হয়।
এদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালে রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে। সেসময়কার মুসলিম সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েদের বাড়ির বাইরে লেখাপড়া করার কোনো সুযোগই ছিল না। বড় ভাইয়ের সহায়তায় ঘরেই আরবি ও উর্দু ভাষায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন রোকেয়া ও তার বোন।
গোপনে ভাইয়ের কাছে বাংলা ও ইংরেজি ভাষাও শেখেন। রক্ষণশীল জমিদার পরিবারের কঠোর অনুশাসনের মধ্যে থেকেও নারী শিক্ষার নিষিদ্ধ যুগে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
১৯৯৭ সালে মিঠাপুকুরে তার স্মরণে গড়ে তোলা হয় একটি স্মৃতিকেন্দ্র। ২০০১ সালের ১ জুলাই পায়রাবন্দ গ্রামে ‘বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র’ নামকরণ করে এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেন্দ্রটি বিকেএমইএর কাছে হস্তান্তর করে। এরপর আবারো বন্ধ হয়ে যায় এটি। পরে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে এর দায়িত্বভার দেয়। তারপরও চালু হয়নি কেন্দ্রটি।
১৯৩২ সালের এদিনে কোলকাতায় মারা যান বেগম রোকেয়া। সেখানকার সোদপুরে তখন তাকে সমাহিত করা হলেও পায়রাবন্দে তার মরদেহ এনে সমাহিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেটিও আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
বেগম রোকেয়ার স্মৃতিবিজড়িত স্থানে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান দর্শনার্থীরা। কেবল ৯ ডিসেম্বরেই তার আতুড় ঘরটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা ও মেলার আয়োজন করা হয়।
তবে স্মৃতিকেন্দ্রটি খুব শিগগিরই খুলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।