গত ২০১২ থেকে ১৬ সাল পর্যন্ত দেশের প্রত্যেকটি সাম্প্রদায়িক হামলার পেছনে রয়েছে জামাত এবং তাদের সহযোগীরা— আর নিজেদের আড়াল করতে তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ব্যবহার করছে।
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে গোবিন্দগঞ্জের ঘটনায় নির্মূল কমিটি গঠিত তদন্ত দলের একজন সাবেক বিচারপতি শামসূল হুদা বলেন, ওইসব হামলা অমানবিক।
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মা, উল্লেখ করে তাদের রক্ষা করার কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে একটি পুস্তিকায় গোবিন্দগঞ্জ ও নাসিরনগরের হামলার চিত্র তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ২০১২ সালের রামু থেকে ২০১৬ সালের নাসিরনগর পর্যন্ত বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো জঙ্গি, মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানোর জন্য জামাত ও তাদের সহযোগীরা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পরিদর্শন শেষে তারা এসব তথ্য জানান।
পাশাপাশি, বক্তারা সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সরকারকে ওআইসি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করারও পরামর্শ দেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও গাইবান্ধায় সাঁওতালদের ওপর হামলাসহ দেশে গত চার বছরে যত সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে এর পেছনে জামাত জড়িত বলে জানিয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। আর নিজেদের বাঁচাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ব্যবহার করেছে তারা।
গত ২১ নভেম্বর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ১৮সদস্যর একটি প্রতিনিধিদল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পরিদর্শনে যায়। এসময় ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা গণশুনানিতে অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা গাইবান্দায় যেসব সাঁওতালদের অবৈধভাবে আটক করা হয়েছে শিগগিরই তাদের ছেড়ে দেয়ার দাবি জানান। আর এসব ঘটনায় জামাত ও তাদের সহযোগী শক্তি জড়িত বলেও অভিযোগ করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
জামাত রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাজনীতি করার পাঁয়তারা করছে উল্লেখ করে এ সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আর সরকার জামাতকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ৪৫ বছরেও নিষিদ্ধ করতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন।
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করারও দাবি জানানো হয়।