শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রাজধানীর মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।
একাত্তরে নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার দেশের মেধাবী সন্তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা জানাতে ভোর থেকেই প্রস্তুত ছিল মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ।
একের পর এক যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর করায় এবারের এই বিশেষ দিনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে।
বুধবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের এ বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এসময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।
পরে দলের পক্ষ থেকে নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আবারো ফুল দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর একে একে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোট, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, শহীদ পরিবারের সদস্যরা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা, ঢাকার দুই মেয়র, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা জানানো শেষে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
বিনয় এবং শ্রদ্ধায় জাতি ও্ইসব বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করছে। একই সাথে এবারও জাতির প্রত্যাশা, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যারা হত্যা করেছে এবং যারা বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে আছে অথবা পলাতক আছে তাদের বিচারের রায কার্যকর করে দেশকে কলংক মুক্ত করা।