বড় দিন উপলক্ষে যিশুখ্রিস্টের জন্মস্থান জেরুসালেমের বেথলেহেমে সমবেত হয়েছেন শত শত মানুষ। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভ্যাটিকানের সেইন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় প্রার্থণায় অংশ নেন হাজার হাজার খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী।
প্রার্থণায় নেতৃত্ব দেন রোমান ক্যাথলিকদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। এ সময় যিশুর শরণার্থী জীবনের কথা মনে করে বিশ্বজুড়ে শরণার্থী শিশুদের দুঃখ-দুর্দশার নিন্দা করেন তিনি।
ফ্রান্সি বলেন, ধন সম্পদের আসক্তি ঈশ্বরকে আড়াল করে রেখেছে অন্ধ করে রেখেছে অনেককে। এ কারণে ক্ষুধার্ত, শরণার্থী, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ঘরহারা মানুষদের প্রতি মানবিক হতে বিশ্বের ১২০ কোটি রোমান ক্যাথলিকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপন করছেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা।
তবে, প্রতিবারের মত বড়দিনের উৎসব নিয়ে উচ্ছ্বাস নেই গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালদের মধ্যে। খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তাদের। উৎসব আয়োজনের কথা ভাববারই অবকাশ নেই কারো। তবে, ভূমির অধিকারের দাবিতে এখনও সোচ্চার তারা।
গির্জায় গির্জায় প্রার্থনা আর মঙ্গল সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এবারের বড়দিনে বিশ্ব শান্তি কামনার পাশাপাশি প্রার্থনা করা হয় দেশের ওপর যেন বর্ষিত হয় শান্তির বারিধারা। অশান্তি আর জঙ্গিবাদ দূর করে অসাম্প্রদায়িক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কামনা সবার।
বড় দিন উপলক্ষে রাজধানীর গির্জাগুলোতে রোববার সকালে পাঠ করা হয় যিশুর জীবনী আর পৃথিবীতে তার আগমনের উদ্দেশ্য।
যিশুর আগমন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যে শান্তির সুবাতাস নিয়ে এসেছে তা ধরে রাখাই যীশুর প্রতি শ্রেষ্ঠ উপহার হবে- জানান ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চ বিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও।
এরপর মঙ্গল সঙ্গীত গেয়ে স্মরণ করা হয় যিশুর মহিমার কথা। প্রার্থনা করা হয় জগতের সকল মানুষ যাতে সব ধরনের হিংসা-বিদ্বেষকে দূরে ঠেলে দিয়ে, ভালোবাসা ও আত্মশুদ্ধির পথে নিজেকে উৎসর্গ করে। যাজকদের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন ভক্তরা।
আনন্দ আর উৎসবে যেভাবে বড়দিন উদযাপন করা হয় সারা বছর যেনো এভাবেই কাটে যিশুর কাছে এমনটাই প্রার্থনা ভক্তদের।
মধ্যরাতেই রাজধানীর গির্জাগুলোতে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রার্থনা। ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মহামানব যিশুখ্রিস্টকে স্মরণ করেন খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা।
বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক ও সুখি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কামনা সবার।
এছাড়া ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসবমুখর পরিবেশে দেশের বিভিন্ন স্থানে বড়দিন উদযাপন করছেন খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা। তবে, প্রতিবারের মত বড়দিনের উৎসব নিয়ে উচ্ছ্বাস নেই গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালদের মধ্যে। খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তাদের। উৎসব আয়োজনের কথা ভাববারই অবকাশ নেই কারো। তবে, ভূমির অধিকারের দাবিতে এখনও সোচ্চার তারা।
যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে চট্টগ্রামেরও ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হচ্ছে বড়দিন। যিশুর আশীর্বাদে জাগতিক দুঃখ-জরা থেকে মুক্ত হওয়ার প্রার্থনা করা হয় এদিন। বরিশালে শুভ বড়দিন উপলক্ষে ক্যাথলিক চার্চের পাশাপাশি খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বাড়িগুলোকেও সাজানো হয় আলোকসজ্জায়।
ময়মনসিংহ শহরেরও উদযাপিত হচ্ছে বড়দিন। দিনটি উপলক্ষে শহরের গীর্জাগুলি ও খ্রিস্টানন অধ্যুষিত এলাকায় রঙিন বাতিসহ বিভিন্ন ধরনের সাজে সজ্জিত করা হয়েছে।
দিনাজপুরেও উদযাপিত হচ্ছে বড়দিন। এছাড়া উৎসাহ-উদ্দীপনা আর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপিত হচ্ছে নড়াইল, শেরপুর, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, গাজীপুর ও জামালপুরসহ সারাদেশে।
এদিকে, ৬ নভেম্বর হামলার শিকার হয়ে গাইবান্ধার সাপমারা ইউনিয়নের জয়পুর ও মাদারপুর গ্রামের মিশন গীর্জার পাশে বা খোলা মাঠে দিন কাটাচ্ছে অন্তত আড়াইশ সাঁওতাল পরিবার। যাদের বেশিরভাগই খ্রিস্ট ধর্মালম্বী। তাদের লড়তে হচ্ছে শীত আর অভাবের সঙ্গে। এর মধ্যেও শুভেচ্ছার বার্তা নিয়ে এসেছে খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। কিন্তু, ঘরদোর আর উঠোন নিকোনো ছাড়া কোনো উৎসবের আমেজ নেই তাদের মধ্যে।
আদমপুর মিশন আর মাদারপুর গীর্জা ছাড়াও কাছাকাছি ক্যাথলিক আর লুথেরাণদের কিছু গির্জাকে কেন্দ্র করেই মূলত বড়দিনের উৎসব পালিত হয়। এই এলাকায় দুই হাজার খ্রিস্টান পরিবার রয়েছে।