জেলা পরিষদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক-সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের আগের দিন এ নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন তিনি।
এ নির্বাচনে কোনো মন্ত্রী-এমপি যেন আচরণবিধি লঙ্ঘন না করেন সে বিষয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া আছে –এ কথা জানিয়ে কাদের বলেন, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠিন।
কেউ কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ এসেছে— সাংবাদিকদের মাধ্যমে তাদের আবারো সতর্কবার্তা পাঠাতে চাই- আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তারা এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না, কোনো প্রকার নির্বাচনী কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতে পারবেন না। যারা এলাকায় আছেন স্ব স্ব এলাকা ত্যাগ করুন।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে— নিয়ে কাদের বলেন, টাকা কালো কি সাদা, আমি জানি না তবে আমাদের দেশে নির্বাচনে মানি ফ্যাক্টর এখনো, মানি হ্যাজ এ রোল টু প্লে। এখানে টাকার যে একটা ভূমিকা আছে এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
নির্বাচন কমিশন যেখানে টাকার অঙ্ক নির্ধারণ করে দিয়েছে সে অঙ্কটা কোনো ইলেকশনেই (নির্ধারিত) থাকছে না, সীমাটা অনেক জায়গাতেই লঙ্ঘিত হচ্ছে—এ অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা সদরে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে চেয়ারম্যান, সাধারণ ও সদস্য নির্বাচনে ভোট দেবেন স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা।
তিন পার্বত্য জেলা বাদ দিয়ে ৬১টি জেলায় এই নির্বাচন হচ্ছে। তবে এর মধ্যো ২১ জেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কুষ্টিয়ায় একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও আদালত সে প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে।
এই নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আওয়ামী লীগের যেসব প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন তাদের প্রতি কোনো বার্তা আছে কি না- এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, এই ইলেকশনে অপজিশন অংশ নেয়নি। অপজিশন বলতে বিএনপি-জাতীয় পার্টি, তাদের কোনো অংশগ্রহণ এই নির্বাচনে নেই। এখানে আমরা কাউকে মনোনয়ন দেইনি, সমর্থন করেছি।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে আদর্শ মনে করেন।
এছাড়া জেলা পরিষদ নির্বাচন ছাড়াও জঙ্গিদের আত্মঘাতী হওয়ার নতুন ধরন বা কৌশল নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করে কাদের বলেন তবে আমরা শঙ্কিত নই। জঙ্গিদের আত্মঘাতী হওয়ার এ নতুন কৌশল আমাদের সতর্ক হওয়ার নতুন বার্তা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেখানে নারী আত্মঘাতী এবং শিশুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে— নারী যেখানে সুইসাইডাল স্কোয়াডে আছে, একজন কিশোর পর্যন্ত আত্মঘাতী। এ বিষয়টি নতুন মাত্রা যোগ করলো। সুইসাইড অ্যাটাকটা আমাদের দেশে নতুন মাত্রা। সুইসাইড হামলার দিক থেকে এটা আমাদের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা।