ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে কেউ যেন জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত করতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সাংসদ লিটন হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক সমাজকে আমি একটা কথা বলব- জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস থেকে আমাদের শিক্ষার্থী ও সমাজকে মুক্ত রাখতে হবে।’
বুধবার দুপুরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রংপুর বিভাগের ভিডিও কনফারেন্সে সময় এ কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনোমতেই যেন এখানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দানা বাঁধতে না পারে।
গত ২০১৩ সালে রংপুরে যে তাণ্ডব হয়েছে-মানুষ হত্যা করা, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা, গাছপালা কেটে ফেলা। ২০১৪ সালে বিএনপি-জামাত জোট তারাই আবার জঙ্গির ভূমিকায় অবতীর্ন হয়। বাসে,ট্রেনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। পুলিশ হত্যা করেছে। আর সেইসাথে সাথে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে একটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হয় বলে তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নাই। আর কে ভাল কে মন্দ সে বিচার করবেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। এটা বিচারের দায়িত্ব মানুষকে আল্লাহ পাক দেন নাই। কাজেই মানুষকে খুন করে কোন ভাল কাজ হতে পারে বা মানুষকে খুন করে কেউ বেহেস্তে যেতে পারে সেটা আমি বিশ্বাস করি না। কারণ এভাবে কেউ যে বেহেস্তে গেছে তা কেউ জানতে পারেনি। কাজেই এধরনের বিভ্রন্তি সৃষ্টি করে আমাদের মেধাবি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিপথে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ব্যাপারে আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক,শিক্ষার্র্থী এমনকি কর্মচারি সকলকে আহ্বান জানাবো সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। যেন আমরা বাংলাদেশটাকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি।
বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে উন্নয়নের যে রোল মডেলের মর্যাদা পাচ্ছে তা ধরে রাখতে মেধাবীদের মনোযোগী হতে হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্যু'র মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় টিকে থাকতে একটি এলিট শ্রেণী তৈরি করেছিল।
জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা— বিভিন্ন ভাতার মাধ্যমে মানুষকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলেও এ সময় জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, যে কোনো মূল্যে রংপুরের গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সাংসদ লিটন হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন তিনি।
গত শনিবার সন্ধ্যা পৌণে ৬টার দিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহবাগ এলাকায় নিজ বাসভবনের নিচতলায় বসে কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এসময় তিন জন যুবক একটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসার সামনে আসে। তাদের মধ্যে দুজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে ভেতরে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।