জঙ্গি মারজান ও সাদ্দামের মৃত্যুতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা তদন্ত ব্যাহত হবে না জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক-আইজিপি শহীদুল হক।
পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত শনিবার এ দুই জঙ্গির ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে।
সকালে ঢাকা মেডিকেলে মারজান ও সাদ্দামের ময়নাতদন্ত শেষ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ। দুই জঙ্গির শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ।
মারজান হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার সমন্বয়ক আর রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিসহ উত্তরবঙ্গের জঙ্গি হামলায় জড়িত ছিল সাদ্দাম।
এদিকে, সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে পুলিশের আইজিপি শহীদুল হক জানিয়েছেন, নিহত দুই জনের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা ও সকল অপরাধের তথ্যপ্রমাণ পুলিশের হাতে রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এ দুই জঙ্গি নিহত হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারজান গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলায় জঙ্গিদের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। আর সাদ্দাম রংপুরের জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিসহ উত্তরাঞ্চলে একাধিক জঙ্গি হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি পাঁচটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি এবং আরো পাঁচটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলারও আসামি।
গত বছরের ১৪ এপ্রিল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শ্বশুরবাড়ি থেকে সাদ্দামকে পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন তুলে নিয়ে এসেছিল বলে জানিয়েছেন তার বাবা তাজুল ইসলাম।
নাম না জানানো সর্তে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গতবছর ১ জুলাই হলি আর্টিজানে হামলার মাস খানেক পর মারজানকে আটক করা হয়। এরপর কয়েক দিন বাস্তবিক অর্থেই মুখ বন্ধ রাখেন মারজান। এ সময় তিনি কথাবার্তাও বলেননি, খাওয়াদাওয়াও বন্ধ রেখেছিলেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আজিমপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হন মারজানের স্ত্রী আরেফিন প্রিয়তি।