টঙ্গীর তুরাগতীরে ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব।
শুক্রবার ইজতেমা ময়দানে জুমার নামাজের আগে হেদায়েতি বয়ান শুরু হয়েছে।
প্রথমপর্বে যোগ দিয়েছেন লাখো মুসল্লি। তাদের জিকির-আজকারে মুখর তুরাগতীর। আগামী রোববার আখেরি মোনাজাতে শেষ হবে প্রথম পর্বের ইজতেমা।
ভারতের মওলানা ওবায়দুল খোরশেদের আমবয়ানের মধ্যদিয়ে ফজর নামাজের পর ইজতেমা শুরু হয়। তার বয়ান বাংলায় অনুবাদ করেন বাংলাদেশের মওলানা জাকির হোসেন।
ইজতেমা মাঠের দায়িত্বে নিয়োজিত মুরব্বি গিয়াসউদ্দিন জানান, আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রোববার প্রথম পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার কথা এর চার দিন পর আগামী শুক্রবার শুরু হবে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।
উল্লেখ, ১৯১০ সালে ভারতের মেয়াতে তাবলিগ জামাত প্রতিষ্ঠা করেন হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)। ১৯৪৬ সালে ঢাকার কাকরাইল মসজিদের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাবলিগের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৬ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা হয়ে আসছে। চাপ কমাতে ২০১১ সাল থেকে ইজতেমাকে দুই পর্বে বিভক্ত করা হয়। তার পরও স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১৫ সাল থেকে দেশের অর্ধেক জেলা প্রথম দুই ধাপে এবং বাকি অর্ধেক জেলা পরের বছর দুই ধাপে অংশ নিয়ে আসছেন।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টঙ্গীর বিভিন্ন মৌজায় ইজতেমার জন্য ১৬০ একর জমি বরাদ্দ দেন।
আগামী ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বে আরও ১৫ জেলার মুসল্লি অংশ নেবেন। আগামী বছর বাকি ৩২ জেলার মুসল্লি তুরাগতীরে সমবেত হবেন।
মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে হেলিকপ্টারে টহল দেয়া হয়েছে। তুরাগ নদেও থাকছে সার্বক্ষণিক পাহারা। রাতের নিরাপত্তায় থাকছে নাইটভিশন বাইনোকুলার জানান র্যা বের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।
টঙ্গীর টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) মাঠে সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, এবারই প্রথম ইজতেমা ময়দানের চারপাশ ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। নিরাপত্তায় মোতায়নে আছেন র্যা ব-পুলিশের ১২ হাজার সদস্য।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ জানিয়েছেন, মুসল্লিদের অজু, গোসল ও সুপেয় পানি সরবরাহে ১২ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন ঘণ্টায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ গ্যালন পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
মুসল্লিদের চিকিৎসায় গাজীপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন চারটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে। গাজীপুরের সিভিল সার্জন আলী হায়দার জানান, মুসল্লিদের জন্য টঙ্গী হাসপাতালে ৫০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপ-পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান জানান, ইজতেমাস্থলে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ফায়ারম্যানরা অবস্থান করছেন। ময়দানের প্রত্যেক খিত্তায় ফায়ার ডিস্টিংগুইশারসহ ফায়ারম্যান ও বিদেশি মেহমানখানা এলাকায় পানিবাহী গাড়ি, তিন সদস্যের ডুবুরি ইউনিট, একটি স্ট্যান্ডবাই লাইটিং ইউনিট ও পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স থাকছে।