হিমেল হাওয়া ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিনে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন মুসল্লিরা। মুরুব্বীদের বয়ানে ঈমান, আমল ও আখলাকের কথা শুনছেন সমবেত দেশি-বিদেশি লাখ লাখ মুসল্লি।
টঙ্গীর তুরাগপাড়ে রাতভর জিকির-আসগারের শেষে শনিবার ফজরের নামাজ পর আমবয়ান মধ্য দিয়ে চলছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম। আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে দেশ-বিদেশ থেকে ইজতেমা ময়দানে ভীড় করছেন মুসল্লীরা।
বার্ধক্যজনিত অসুস্থ্যতায় আজ আরো এক মুসল্লীর মৃত্য হয়েছে। এ নিয়ে এবারের ইজতেমায় ৭ জনের মৃত্যু হলো। পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে র্যা ব-পুলিশ সদস্যরা।
মুসল্লিদের আনা নেয়ার জন্য চালু রয়েছে বিশেষ বাস ও ট্রেন সার্ভিস।
আগামীকাল (রোববার) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব। এবছর দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে গাজীপুরসহ ৩২টি জেলার মুসল্লিরা এবার দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন। এরমধ্যে প্রথম পর্বে ১৬ জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন।
আর দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবেন বাকী ১৬ জেলার মুসল্লিরা। রাত ৩টা থেকে মোনাজাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এয়ারপোর্ট থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা, গাজীপুর সদরের মীরের বাজার থেকে টঙ্গী ও আব্দুল্লাপুর থেকে বাইপাস সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোণে নদীর তীরে তাবলীগের বিদেশী অতিথিদের জন্য লোহার পাইপ ও টিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিদেশী নিবাস। বিদেশি অতিথিদের জন্য অন্য বছরের তুলনায় থাকা খাওয়ার সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। বিদেশি মুসল্লীগণ ইজতেমার অস্থায়ী নিবাসে অবস্থান করে নিরাপত্তা ও আয়োজন নিয়ে সন্তু রয়েছেন।
বিদেশি নিবাসসহ ইজতেমা এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫ স্তরে র্যা ব-পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজারের বেশি সদস্য কাজ করে যাচ্ছেন। পোষাকাধারি নিরাপত্তা কর্মীদের পাশাপাশি প্যান্ডেলের ভেতরে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন গোয়েন্দা কর্মীলা। বিদেশি মেহমানদের নিবাসকে ঘিরে তাবলিগ জামাতের স্বেচ্ছাসেবকদের নজরদারি রয়েছে।
বিদেশি মেহমানদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিফোন সংযোগসহ আধুনিক সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবারের ইজতেমায় একশটি দেশের কমপক্ষে ১০ হাজার তাবলীগ জামাতের বিদেশি মেহমান শরীক হবে বলে আশা আয়োজকদের।