বাংলাদেশ বিমানের পরিবর্তে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে উঠেও বিড়ম্বনা এড়ানো গেল না— সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আধাঘণ্টা ফ্লাইটের ভেতর বসিয়ে রেখে বিমানের ফুয়েল টেস্ট করা হয়।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার উদ্দেশে গত রবিবার রাত পৌনে ১০টায় ইতিহাদের ফ্লাইট ধরতে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ফ্লাইট বিলম্ব হবে। রাত ১০টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার ৩০ জন সফরসঙ্গীকে নিয়ে যাওয়া হয় ইতিহাদের ফ্লাইটে। তার আগে ওই ফ্লাইটে তোলা হয় ৩২৬ জন সাধারণ যাত্রী।
এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফ্লাইটের ভেতরে রেখে জ্বালানি তেল সংগ্রহ বা পরীক্ষা করাটা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ কাজটা তারা (ইতিহাদ কর্তৃপক্ষ) আগেই করতে পারত।
তিনি আরো বলেন, ভিভিআইপি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মর্যাদার হানি ঘটেছে। এমন ঘটনা যদি বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে ঘটত তাহলে এতক্ষণে হৈচৈ পড়ে যেত।
প্রধানমন্ত্রীকে অন বোর্ড রেখে রিফুয়েলিং করাটা ঠিক হয়েছে কি-না? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের কান্ট্রি ম্যানেজার হানিফ জাকারিয়া বলেন, ভিভিআইপি ফ্লাইটের ফুয়েল টেস্ট করার জন্য স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ওই ফ্লাইটের তেমন বিলম্ব হয়নি— মিনিট দশেক বিলম্ব হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটের ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়— যার কারণে সেটি তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করে।
এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রুটির ওই ঘটনা ছিল ‘মানবসৃষ্ট’। এ ঘটনায় করা মামলায় পরে বিমানের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।