জেলা পরিষদ নির্বাচনে গণতন্ত্র চর্চা হয়নি—এ নির্বাচনে ব্যাপকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘণের ঘটনা ঘটেছে, আইনত নির্দলীয় হলেও নির্বাচন হয়েছে মূলত ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের মধ্যে-যেখানে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না।
মঙ্গলবার রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন সদ্য সমাপ্ত জেলা পরিষদ নির্বাচনের চিত্র ও নবনির্বাচত চেয়ারম্যানদের তথ্য পর্যালোচনা নিয়ে ঢাকা রির্পোটার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মলনের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। সেখানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
এ ধরনের নির্বাচন অব্যাহত থাকলে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়বে বলেও আশংকা করছে সংগঠনটি।
জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের গঠনের তাগিদও দেয়া হয়েছে 'সুজনের' পক্ষ থেকে।
সুজনের' নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি। মূলত সেটি ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের মধ্যে। এ নির্বাচনে ব্যপক আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে- এমন তথ্য তুলে ধরা হয় '। এই নির্বাচন নিয়ে দেওয়া হয় বেশ কিছু সুপারিশও।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে গণতন্ত্র চর্চা হয়নি- হয়েছে নৈরাজ্য এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
সুজনের সম্পাদক আরো বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে সঙ্গে আমরা দ্বিমত পোষণ করি না। জেলা পরিষদ নির্বাচনটি নির্বাচনের নামে পাঁয়তারা হয়েছে। তবে যেহেতু স্বাধীন দেশে জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাই বিষয়টি ইতিবাচক।
তিনি বলেন, নির্বাচন মানেই হচ্ছে বিকল্পের মধ্যে বেছে নেয়া— কিন্তু জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়ে গেল জনগণ জানলোই না। আবার নির্বাচন হলো, কিন্তু নির্বাচিতরা জানেনই না তারা কি করবেন? তাদের দায়িত্ব বা কর্মপরিধিই বা কী? জেলা পরিষদ নির্বাচনে শুধু আইনি ক্রটিই নয়, এতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। যার ফলে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসের ষোল কলাপূর্ণ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই সামনে যে নির্বাচন কমিশন গঠন হবে, আশা করবো তা একটি শক্তিশালী কমিশন হবে। কেননা, হুদা কমিশন যে আস্থার সৃষ্টি করেছিল, তা ধ্বংস হয়েছে রকিব কমিশনের সময়।
যে আইনে জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়েছে তা পরিবর্তনের দাবি জানান সুজন- সম্পাদক।
এই আইন বাস্তবায়িত হলে ' অথর্ব জেলা পরিষদ' গঠিত হওয়ার আশংকাও করেন তিনি।
জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন সুজন সম্পাদক।