আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত রোববার মারা গেছেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ শোক জানিয়েছেন।
দীর্ঘ দিন ধরে হৃদরোগ ও শ্বাষকষ্টে ভুগছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গতবছর এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাও নেন তিনি।
মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এ শোক সংবাদ। সকাল না হতেই হাসপাতালে ছুটে আসেন আত্মীয় স্বজনসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। হাসপাতালে আসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও। এ সময় তাকে এক নম্বর পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে কিছু বলার ভাষা নেই। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন এক বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব। পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তিনি এক নম্বর ছিলেন বলে তাঁর মনে হয়। তাঁর মৃত্যুতে বিরাট শূন্যতা তৈরি হয়েছে— এ শূন্যতা সহজে পূরণ হবে বলে মনে করার কারণ নেই।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে শেষবিদায়ের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ রাজধানীর জিগাতলার বাসভবনে যাবে। দুপুর ১২টায় মরদেহ নেয়া হবে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। বেলা ৩টায় মরদেহ নেয়া হবে সংসদ ভবনে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এরপর সংসদে ‘অবিচুয়ারি রেফারেন্স’ হবে। আগামীকাল সোমবার সকাল ৯টায় তাঁর মরদেহ সিলেটে যাবে। সকাল ১০টায় সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বেলা ১১টায় মরদেহ যাবে সুনামগঞ্জে। সেখান থেকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মরদেহ তাঁর নির্বাচিত এলাকায় নেয়া হবে। বিকেলে তাঁর শেষকৃত্য হবে।
হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর জিগাতলায় সাবেক এ মন্ত্রীর নিজ বাসভবনে। সেখানে স্পিকার, অর্থমন্ত্রী, পর্যটনমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী, চিফ হুইপসহ দলের সিনিয়র নেতাকর্মীরা জড়ো হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে দেশ একজন সংবিধান বিশেষজ্ঞ হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি দলের পক্ষ থেকে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
বাসা থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। সেখানে রাজনীতিবিদ, বিশিষ্টজন, স্বজনরা ছাড়াও শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ।
ভোরে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে মারা যান তিনি। তিনি হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ব্যক্তিগত সহকারী কামরুল হক জানান, আজ ভোর পৌনে ৪টার দিকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
কামরুল হক আরো বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে অসুস্থবোধ করছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গত শুক্রবার সকালে তাকে ল্যাবএইডে ভর্তি করা হয়। তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তার অবস্থার বেশ অবনতি হয়। রাত নয়টার দিকে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। তিনি আইন, বিচার ও সংসদ-বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।