শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ্য ব্যক্তিদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে নীতিগত উপায় উদ্ভাবন ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।
রোববার সকালে ঢাকার হোটেল র্যা ডিসন ব্লুতে তিন দিনব্যাপী ই-নাইন মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ এবারই প্রথম এ সম্মেলন হচ্ছে।
সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ, সহিংস উগ্রবাদ এবং সশস্ত্র সংঘাত বিশ্বে মানবাধিকার, শান্তি এবং স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি হিসাবে দেখা দিয়েছে। উদ্ভাবন, সমঝোতা ও দূরদর্শী নীতির মাধ্যকমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। আর এ বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকার শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা উপকরণের সংস্কার করছে।
ই-নাইনের এই বৈঠক ‘মাইলফলক হিসাবে’ চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি আরও বিশ্বাস করি, আমাদের এই বিশ্বের জন্য একটি টেকসই সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত ভবিষ্যত নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই বৈঠক প্রয়োজনীয় সুযোগ চিহ্নিত এবং কাজে লাগাতে সহায়তা করবে।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নে শিক্ষা বিষয়ক এসজিডি-৪ লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর কৌশল নির্ধারণে রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী ই-নাইন মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলন শুরু হয়েছে। সকালে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার শিক্ষা বিষয়ক ‘এসডিজি-৪’ লক্ষ্য অর্জনের কার্যকর কৌশল নির্ধারণে ই-নাইন মন্ত্রিপর্যায়ের একাদশ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি, ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার ভিন্নতা থাকলেও পারস্পারিক বোঝাপড়া, সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে।
শিক্ষকতা পেশায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেয়া দরকার বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
ই-নাইনের সদস্য দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ব্রাজিল, মিসর, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও নাইজেরিয়া।
এ অনুষ্ঠানে উন্নয়নশীল ৯টি দেশের শিক্ষামন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ ফোরামের সভাপতি হওয়ায় বক্তব্যের শুরুতেই তাকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি, ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার বিভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহিষ্ণুতা এবং বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা সেতুবন্ধ হিসাবে কাজ করতে পারে।