বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলির সদস্য, বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
রোববার এক শোকবার্তায় বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবনে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যে অবদান রেখেছেন তা জাতি কোনোদিন ভুলবে না। তিনি একজন দক্ষ ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে দেশ ও দেশের মানুষের অধিকারের পক্ষে সবসময় সোচ্চার থেকেছেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন জাতীয় রাজনীতির একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে গণমানুষের রাজনীতিতে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে বহুমাত্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও সামাজিক অগ্রগতির পক্ষে ছিলেন বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর। আমাদের রাষ্ট্রীয় সংবিধান প্রণয়নে একজন অন্যতম রচয়িতা হিসেবে তার ভূমিকা এদেশের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন খালেদা জিয়া।
এদিকে, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যু রাজনীতিতে শূন্যতার সৃষ্টি হওয়া এ শূন্যতা পূরণ হবার নয় এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দুপুর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, আজ দেশ ও জাতি অনেক বড় একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদকে হারিয়েছে। তার মতো একজন পার্লামেন্টারিয়ান হারানো রাজনীতিতে একটি শূন্যতার সৃষ্টি হওয়া। আমি দলের পক্ষ থেকে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সৎ , নিষ্টাবান ও অভিজ্ঞ নেতা ছিলেন। রাজনৈতিক সংকটে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। মানুষের মাঝে আস্থা তৈরি করতেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির নেন্দ্রীয় নেতা নিতাই রায় চৌধুরী, জয়নাল আবদীন ফারুক।
রোববার ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
এর সকাল ৯টার দিকে তার ধানমন্ডির ঝিগাতলার বাসায় নেয়া হয়। পরে সকলের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নেয়া হয়।