আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মরদেহ নিজ এলাকা সোমবার সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহীদ বীর স্মৃতিস্তম্ভের কাছে রাখা হয়েছে।
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সিলেটবাসী। সকাল ১১ টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ আনার পর হাজারো মানুষ শোক, শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় শেষ বিদায় জানান এই বহুমাত্রিক রাজনীতিবিদকে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সুনামগঞ্জে। সেখানে ফুলেল শ্রদ্ধায় সুনামগঞ্জবাসী তাঁকে শেষ বিদায় জানালে নিয়ে যাওয়া হয় নির্বাচনী এলাকা শাল্লায়। পরে তাঁর নিজ জন্মস্থান দিরাইয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শোক জানিয়েছেন।
দীর্ঘ দিন ধরে হৃদরোগ ও শ্বাষকষ্টে ভুগছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গতবছর এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাও নেন তিনি।
রোববার ভোরে মারা যওয়ার পর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এ শোক সংবাদ। সকাল না হতেই হাসপাতালে ছুটে যান আত্মীয় স্বজনসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। হাসপাতালে যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় তাকে এক নম্বর পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে কিছু বলার ভাষা নেই। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন এক বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব। পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তিনি এক নম্বর ছিলেন বলে তার মনে হয়। তাঁর মৃত্যুতে বিরাট শূন্যতা তৈরি হয়েছে— এ শূন্যতা সহজে পূরণ হবে বলে মনে করার কারণ নেই।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে শেষবিদায়ের প্রস্তুতি: গতকাল হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ রাজধানীর জিগাতলার বাসভবনে নেয়া হয়, দুপুর ১২টায় মরদেহ নেয়া হয় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। বেলা ৩টায় মরদেহ নেয়া হয় সংসদ ভবনে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী স্পিকার এবং দেশের রাজনৈতিক দলের নেতারা।
আজ তার মরদেহ সিলেটে নেয়া হয়। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বেলা ১২টার দিকে মরদেহ নেয়া হয় সুনামগঞ্জে। সেখান থেকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মরদেহ তাঁর নির্বাচিত এলাকায় নেয়া হয়। বিকেলে তাঁর শেষকৃত্যা হবে।
হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর রাজধানীর জিগাতলায় সাবেক এ মন্ত্রীর নিজ বাসভবনে যান স্পিকার, অর্থমন্ত্রী, পর্যটনমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী, চিফ হুইপসহ দলের সিনিয়র নেতাকর্মীরা। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে দেশ একজন সংবিধান বিশেষজ্ঞ হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি দলের পক্ষ থেকে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
বাসা থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। সেখানে রাজনীতিবিদ, বিশিষ্টজন, স্বজনরা ছাড়াও শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ।
ভোরে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে মারা যান তিনি। তিনি হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ব্যক্তিগত সহকারী কামরুল হক জানান, আজ ভোর পৌনে ৪টার দিকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
কামরুল হক আরো বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে অসুস্থবোধ করছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গত শুক্রবার সকালে তাকে ল্যাবএইডে ভর্তি করা হয়। তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তার অবস্থার বেশ অবনতি হয়। রাত নয়টার দিকে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। তিনি আইন, বিচার ও সংসদ-বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।