দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যক্তি, দল বা প্রভাবের কাছে মাথা নত করবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।
তিনি বলেন, আসছে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত করাই নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান সিইসি।
আর রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জন করেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নতুন নির্বাচন কমিশনাররা।
প্রায় দুই মাস আলোচনা মত বিনিময়ের মধ্যদিয়ে সার্চ কমিটি করে নতুন যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলো তাদের সামনে থাকছে জনপ্রত্যাশা পূরণের বিপুল চাপ। আর জনগণের আস্থা অর্জন করে নিরপেক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।
নিজ বাসভবনে দেয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজানোর নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন গণমাধ্যমের কাছে।
এ সময় তিনি বলেন, বিগত দিনের সমালোচনা, তর্ক-বির্তকের উর্ধ্বে থেকে কাজ করবে তার নেতৃত্বে কমিশন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে আমাদের বহুদিনের বিচরণ— এটি একটি অভিজ্ঞতা। পূর্বসরিদের অভিজ্ঞতার আলোকে এবং যে সমস্ত দিক-নির্দেশনা তারা রেখে গেছেন সেগুলোর আলোকেই কাজ করে যাবো।’
বিগত দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন কমিশন নিয়ে যে আস্থার সংকট বিভিন্ন সময়ে তৈরি হয়েছে, তা দূর করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলেন তিনি। এসময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, ‘রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের সহযোগিতা ছাড়া এতো বড় দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়— আমি আশা করি সকলের সহযোগিতা পাবো।’
নিরপেক্ষভাবে আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করাই প্রধান উদ্দেশ্য এ কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের নতুন সিইসি বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য হলো যে, নিরপেক্ষভাবে ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে আইন মোতাবেক নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করা।’
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আইন তৈরির যে দাবি বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন ধরে উঠেছে, সেবিষয়টি সরকারের কাছে তুলে ধরবেন বলে জানান তিনি।
আর নির্বাচন কমিশনে সচিব হিসেবে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা বলেন নবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের প্রভাব মুক্ত থেকে সহিংসতামুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান বড় চ্যালেঞ্জ।
নতুন কমিশনে একমাত্র নারী কবিতা খানম। জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ একত্রিশ বছর। সে দায়িত্ব যেভাবে নিরপেক্ষভাবে পালন করেছেন সে অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করতে চান নতুন দায়িত্বেও।
বিশ্বের বড় বড় গণতান্ত্রিক দেশগুলোর নির্বাচনের উদাহরন টেনে তিন জনই বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ দিন যে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হতো সে প্রথা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বের করে আনার চেষ্টা করবে এই নতুন নির্বাচন কমিশন।