সদ্য নিয়োগ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কে. এম নুরুল হুদা মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্মুখ সমরে অংশ নিয়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। স্বাধীনতার পরে জেলা প্রশাসক ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
নতুন সিইসি হিসেবে কে. এম নুরুল হুদা এবং নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আরো ৪ জনকে মঙ্গলবার নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
এক যুগ আগে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়া কে. এম নুরুল হুদার জন্ম ১৯৪৮ সালের পটুয়াখালীতে।
কে. এম নুরুল হুদা নিয়ে কিছু কথা:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিভাগে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন সদ্য নিয়োগ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম নুরুল হুদা।
একাত্তারে ৯ নম্বর সেক্টরে মেজর জলিলের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দেশ স্বাধীনের পর ফরিদপুর ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ছাড়াও কিছু মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া এরশাদ সরকারের আমলে ৮৫ সালের উপজেলা নির্বাচন ও ৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন
২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এলে কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে নুরুল হুদাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়। সর্বোচ্চ আদলত ওই আদেশ বেআইনি ঘোষণা করলে কে. এম নুরুল হুদা পদন্নতি পেয়ে সচিব হন। চাকরি থেকে অবসরের পর মিউনিসিপাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।
এদিকে, নতুন নির্বচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদারের জন্ম নেত্রকোণায়। সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব একজন আমলার থেকে কথা সাহিত্যিক হিসেবে বেশি পরিচিত।
মাহবুব তালুকদার নিয়ে কিছু কথা:
১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেননতুন নির্বচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার। পরে ১৯৭২ সালে বঙ্গভবনে উপ সচিব হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
এছাড়াও শিশু সাহিত্যের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান মাহবুব তালুকদার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদের কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
আর নতুন নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে একমাত্র অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শাহাদৎ হোসেন চৌধুরীর জন্ম ১৯৫৯ সালে।
শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী নিয়ে কিছু কথা:
১৯৮০ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী। অভিজ্ঞতা রয়েছে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করার।
পরে ২০১০ সালে অবসরে যান তিনি।
এদিকে, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কবিতা খানম রাজশাহী জেলার দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালে অবসরে যান তিনি। কবিতা খানমের স্বামীও একজন বিচারক ছিলেন।
২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। সর্বশেষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৩ সালে অবসরে যান তিনি।