উড়োচিঠিকে ‘পদ্মা সেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্র’ অভিযোগের দলিল বানিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। তবে আইনি ভিত্তি না থাকায় কানাডার আদালতে, তা ধোপে টেকেনি। আদালতের সকল দলিল ও রায় পর্যবেক্ষণ করে, কানাডা ভিত্তিক বাংলা দৈনিক 'নতুন দেশ' প্রকাশ করেছে এসব তথ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাংকের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদার নিয়োগ না করায়, বাংলাদেশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তারা এই ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে বড় ধরনের আঘাত।
কানাডার আদালতে প্রমাণ হয়েছে, অজ্ঞাত একজনের ইমেইল অ্যাটাচমেন্টকে বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিযোগের ভিত্তি বানিয়েছিল বিশ্বব্যাংক।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, পল হেইন্স নামে বিশ্বব্যাংকের একজন কর্মকর্তা কানাডার পুলিশকে পদ্মা সেতু সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেন। পল হেইন্স পুলিশকে জানিয়েছেন, ৪জন গোপন সূত্র ইমেইলের মাধ্যমে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির তথ্য দিয়েছে। এর মধ্যে হেইন্স মাত্র একজনকে চিনতেন। কিন্তু আদালতে তার পরিচয় প্রকাশ করেননি।
আদালতের সকল নথি এবং দলিল পরীক্ষা করে, কানাডা ভিত্তিক দৈনিক নতুন দেশ এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন।
আদালত তার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছে, ১ নম্বর তথ্যদাতা দুর্নীতির যে তথ্য দিয়েছে, তা গুজব নির্ভর। আর অভিযোগকারীও অজানা আর এ কারণেই, অভিযুক্তদের ব্যক্তিগত নথিপত্র জব্দ করার বিষয়টি আইনি ভিত্তির প্রশ্নেই বাতিল হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ না দেয়ায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে— এমন গল্প সাজিয়েছিল।
বিচারক জে নর্ডেইমার তার রুলিং এর উপসংহারে বলেছেন, ২০১১ সালের ২৪ মে, ১১ জুন এবং ৮ আগস্ট আদালত অভিযুক্তদের নথিপত্র জব্দ করার যে অনুমোদন দিয়েছিল তাতে আইনি ভিত্তির ঘাটতি আছে। এ কারণে অভিযুক্তদের ব্যক্তিগত নথিপত্রকে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক অপরিপক্কতার প্রমাণ দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এতে সম্পর্ক হোচট খেলেও এ একটি ঘটনা দিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিবেচনা না করার পরামর্শ তাদের।