মৌচাক-মালিবাগ ফ্লাইওভার নির্মাণকে কেন্দ্র করে মালিবাগসহ সম্পূর্ণ এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুস্ক মৌসুমেও যান ও জলজটে নাকাল এলাকাবাসী। ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে অচলাবস্থা। তারওপর রয়েছে রাস্তা খোড়াখুড়ির কাজ।
গ্যাস-বিদ্যুৎ লাইন সংযোগের কারণ দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খুড়ে রাখা গর্তে পানি জমে সেখানে ময়লা ফেলাতে মশার উৎপত্তিস্থলে পরিণত হয়েছে। এসব দেখভালের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, মাস পেরিয়ে গেলেও তাদের দেখা নেই। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতার কারণই এর জন্য দায়ী।
সড়কের দিকে তাকালে বোঝার উপায় নেই এখন কোনো মৌসুম কারণ শুষ্ক মৌসুমেও প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে হাঁটু পানি। সড়কের পাশেই খোলা ড্রেন। সেখানে হলুদ রশি দিয়ে বিপজ্জনক চিহ্নের সতর্কসংকেত দেয়া থাকলেও প্রতিদিনই কোনো না কোনও যানবাহন গর্তে বা ড্রেনে পড়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে লাইনের উত্তর অংশের উন্নয়ন কাজ চলায় জমে রয়েছে পানি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অফিসের সামনের রাস্তার এমন বেহাল দশা হলেও নির্বিকার পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
একটু সামনে মালিবাগ মোড় পেরুলেই আবারো পানি। সড়ক জুড়ে ছোট-বড় গর্ত— স্থানীয় বাসিন্দা আর ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। লোকসান হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্যেরও।
মৌচাক মার্কেট থেকে মালিবাগ রেলগেটের অংশের সামান্য রাস্তাটুকু পার হতে ঘণ্টা পেরিয়ে যায় বলে জানালেন গাড়ি চালকরা। রাস্তা খারাপের কারণে যানবাহনের দীর্ঘ জট লেগে থাকে।
ওপরে ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ আর নিচে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। দুইয়ে মিলে দুর্ভোগে একাকার এখানকার জনজীবন। অপরিকল্পিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন আর সমন্বয়হীনতা বাড়িয়েছে জনদুর্ভোগ।
রাস্তা-ঘাট দেখভাল বা নাগরিক সেবার দায়িত্ব যারা বা যে প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের খুঁজে পাওয়া কঠিন আর যাদের পাওয়া যায়, ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি নন তারা।