বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাযজ্ঞের আট বছর পূর্তি আজ শনিবার। বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় একটি অধ্যায়।
২০০৯ সালে তৎকালীন বিডিআর সদস্যরা বিদ্রোহ করে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় হত্যা এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করে বিচারিক আদালত।
ডেথ রেফারেন্সের মামলাটি চলমান রয়েছে আপিল বিভাগে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার বিচার এখনও হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, অস্ত্র মামলার তদন্ত শেষপর্যায়ে আর সনাক্ত করা হয়েছে বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িতদের।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি। পিলখানার দরবার হলে ঘটে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। "অপারেশন ডাল ভাত" কর্মসূচির টাকা হেরফেরের কথা উল্লেখ করে পিলখানায় দরবার চলাকালে হঠাৎ করেই বিদ্রোহ শুরু করে তৎকালীন বিডিআর সদস্যরা। ওইসময় জিম্মি করা হয় বিডিআর প্রধান মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ সিনিয়র কর্মকর্তাদের।
পরে হত্যা করা হয় মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ সেনা কর্মকর্তা ও ১৭ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে। অস্ত্রাগার লুট করে বিদ্রোহের জানান দেয় বিডিআর জোয়ানরা। আর এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন বিডিআরের ডিএডি তৌহিদুল আলম। পিলখানার ভেতরে বাসায় বাসায় গিয়ে হত্যা ও লুট করে বিদ্রোহীরা। হত্যার পর মাটির নিজে পুতে দেয়া হয় সেনা সদস্যসহ অন্যান্যদের মরদেহ। অনেক মরদেহ ফেলে দেয়া হয় ড্রেনে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপে আত্মসমর্পন করে বিদ্রোহীরা। পিলখানার ভিতর থেকে একে একে উদ্ধার করা হয় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের মৃতদেহ। বেরিয়ে আসে বিডিআর জোয়ানদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।
এই ঘটনায় হত্যা এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এ মামলায় আসামি ছিলেন ৮৫০ জন। জীবিত ৮৪৬ জনের মধ্যে বিদ্রোহের হোতা ডিএডি তৌহিদুল আলমসহ ১৫২ বিডিআর সদস্যের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি অস্ত্র লুটের জন্য বিভিন্ন মেয়াদের আরো কারাদণ্ড ও অর্থ জরিমানার আদেশ দেয়া হয়। এরমধ্যে বিএনপির সাবেক সাংসদ নাসিরউদ্দিন পিন্টু ও আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড নেতা তোরাব আলীও রয়েছেন। পিন্টু পরে কারাগারে মারা যান। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থ জরিমানা করা হয় আরো ২৫৬ আসামিকে। বেকসুর খালাস দেয়া হয় ২৭৭ জনকে।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ১৫২ জনের ডেথ রেফারেন্স ও ফৌজদারি আপিলের শুনানি চলছে। এছাড়া, আন্যান্য আসামিদেরও বিভিন্ন আবেদন উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছে আদালত। এখনো শেষ হয়নি অস্ত্র ও বিস্ফোরকের মামলাটির তদন্ত।
বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও অস্ত্র মামলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিডিয়ার বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিচারও হয়েছে। অনেকে এই ঘটনায় সাজাও খাটছে। আর আস্ত্র মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।