মহান স্বাধীনতা দিবসের কোনো অনুষ্ঠানে বির্তকিত ও যুদ্ধাপরাধী কোনো ব্যক্তি বা তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
রোববার সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্মেলন কক্ষে এ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
এছাড়া জাতীয় পতাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং পতাকার অপব্যবহার রোধেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে— মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতীয় পতাকার যথাযথ মাপ, রং, উত্তোলন ও নামানোর সময় নির্ধারণ করে জাতিকে জানিয়ে দেবে বলে জানান মন্ত্রী।
এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবে এ কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এটা জেলা-উপজেলা থেকে শুরু যে কোনো পর্যায়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
বিতর্কিত কারা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় নেতারা জানেন, কারা স্বাধীনতাবিরোধী। তারাই সেটা নিশ্চিত করবেন।
স্বাধীনতা বিরোধীদের কোন তালিকা আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমাদের কাছে স্বাধীনতাবিরোধীদের কোন তালিকা নেই। উপজেলার নেতারা জানেন কারা স্বাধীনতা বিরোধী, কারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। জেলা পর্যায়ের লোকজনও জানেন। কাজেই সেইভাবেই জিনিসটি মেইনটেইন করা হবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনত দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ও সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধের সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বে থাকবে সেনাবাহিনীর ৯ম ডিভিশন, ঢাকা থেকে সাভারের সড়কে কোনো তোরণ নির্মাণ করা যাবে না।
বিদেশি কূটনীতিক ও নাগরিকদের বিশেষ নিরাপত্তা স্কোয়াডের মাধ্যমে স্মৃতিসৌধে নিয়ে যাওয়া হবে ও অনুষ্ঠান শেষে পৌঁছে দেয়া হবে। নৌপথে থাকবে নৌ-পুলিশের বিশেষ টহল। জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে জেলা পুলিশ ও বিভাগীয় কমিশনারদের তত্ত্বাবধানে বিশেষ ব্যবস্থা জারি থাকবে।
এ সময় তিন দিনের সরকারি ছুটি থাকায় ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে পর্যটকের ঢল নামার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।
তবে ২৬ মার্চ ঘিরে কোনো ধরনের জঙ্গি হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।