শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য জাকার্তায় 'আইওআরএ' লিডারস সামিটে জোট নেতাদের সমুদ্র সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে 'জাকার্তা কনভেনসন সেন্টারে' 'লিডারস সামিটে' অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য হচ্ছে মহাসাগর ও সমুদ্রপথ উন্নয়নের মাধ্যমে রিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে রূপান্তরের প্রচেষ্টা চালানো। আসুন সামুদ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ ভারত মহাসাগরের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করি। আসুন একসঙ্গে তরি ভাসাই।
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় শুরু হয়েছে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২১ জাতির জোট 'ইন্ডিয়ান ওস্যান রিম অ্যাসোসিয়েশন'-আইওআরএ লিডারস সামিট। তিন দিনের এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ ১৮টি দেশের সুলতান, প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন।
সকালে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো 'জাকার্তা কনভেনসন সেন্টারে' লিডারস সামিটের উদ্বোধন করেন।
পরে সদস্য দেশগুলোর নেতারা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ফটোসেশনে অংশ নেন। এরপর ঢোল বাদ্যের সহযোগে ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য জোটের নেতাদের সমুদ্র সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার কারণে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করার পরও এ অঞ্চলের নাবিক ও মেরিন ইঞ্জিনিয়াররা মাঝেমধ্যেই নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দক্ষ নাবিক গড়তে বাংলাদেশে একটি টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও তিনি সম্মেলনে তুলে ধরেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে বৃহত্তম লক্ষ্যের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাগর ও সমুদ্রপথ ধরে উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ তার একটি অংশ।
বাংলাদেশকে বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এর সমুদ্র সম্পদ টেকসইভাবে ব্যবহারের ওপরই ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং সামাজিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমরা এসডিজি-১৪-কে আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত করেছি এবং সমুদ্র অর্থনীতির দিকে আমাদের মনঃসংযোগকে নবায়ন করেছি।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় সমুদ্রসীমানা নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিরোধ মীমাংসা আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলেও উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদিও আমরা এ বিষয়টিতে সম্পূর্ণভাবেই অবগত যে সমুদ্র এলাকার সম্পদ আহরণের সামর্থ্যের ওপরই আমাদের এই সাফল্য নির্ভর করছে।
‘ভারত মহাসাগর রিম অ্যাসোসিয়েশন এবং সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার প্রকল্পের জন্য একটি প্রাকৃতিক বাসস্থান হিসেবেই আমরা দেখছি’উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারত মহাসাগরকে আমাদের নিরাপত্তা, যোগাযোগ, শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্য অন্যতম মাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা বিশ্বায়নের এই যুগে একটি লাইফলাইন, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক কনটেইনার জাহাজ, তিন ভাগের একভাগ বাল্ক কার্গো এবং তিন ভাগের দুই ভাগ তেলের চালান পরিবাহিত হয়।
'আইওআরএ'র এবারের প্রতিপাদ্য 'শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভারত মহাসাগরের জন্য সমুদ্র সহযোগিতা জোরদার।' এ জোটে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভারত, ইরান, কেনিয়া, সাউথ আফ্রিকাসহ ভারত মহাসাগরীয় ২১টি দেশ।
এছাড়া, সম্মেলনে ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে থাকছেন চীন, মিসর, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।