পাকিস্তানের নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক অপপ্রচারকে রুখে দিয়ে রাসায়নিক অস্ত্রনিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অব কেমিক্যাল উইপনসের (ওপিসিডব্লিউ) নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।
নোবেলজয়ী এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৭ মার্চ থেকে ১০ মার্চ নেদারল্যান্ডসের হেগে অনুষ্ঠিত ওপিসিডব্লিউয়ের ৮৪তম অধিবেশনে আগামী এক বছরের জন্য সংস্থাটির নির্বাহী কাউন্সিলের পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়।
অধিবেশনের তৃতীয় দিনে সর্বসম্মতিক্রমে আগামী এক বছরের জন্য নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলালের নাম ঘোষণা করা হয়।
তিনি ওপিসিডব্লিউতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্বপালন করছেন। তিনি আগামী ১২ মে ওপিসিডব্লিউয়ের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং আগামী ২০১৮ সালের ১১ মে পর্যন্ত এ দায়িত্বপালন করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৬ মার্চ ৫৩ সদস্যের একটি আশিয়ান গ্রুপ ওপিসিডব্লিউয়ের চেয়ারম্যান পদে রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলালের নাম ঘোষণা করে। তার বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত পাকিস্তানী রাষ্ট্রদূতকে প্রার্থী দেখিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আর্ন্তজাতিক অপপ্রচার শুরু করে পাকিস্তান। কিন্তু সেই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়নি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বরং পাকিস্তানি অপপ্রচার রুখে দিয়ে হেগে গত ৯ মার্চের নির্বাচনে খুব সহজেই বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলাল প্রতিদ্বন্দী পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে পরাজিত করেন।
রাসায়নিক অস্ত্রনিরোধ সনদ কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ওপিসিডব্লিউ। পরে এই সংস্থা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদার আসন পায়। রাসায়নিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পায় ওপিসিডব্লিউ।
নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক সংস্থাটিতে বর্তমানে ১৮৯টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই সংস্থা জাতিসংঘের সংস্থা নয়। কিন্তু বিশ্বের যে কোনো দেশে রাসায়নিক অস্ত্রের বিষয়ে পরিদর্শন কিংবা বিশেষজ্ঞ পরামর্শের জন্য ২০০০ সালে ওপিসিডব্লিউয়ের সঙ্গে চুক্তি করে জাতিসংঘ।